কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
তারা হলো: জোবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ অর্ক ওরফে মরক্কো, আব্দুল্লাহ, আবু হাকিম নাঈম, তাজ উল হক রাশিক, আকিফুজ্জামান ও মতিয়ার রহমান।
পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয় পত্রের আঙুলের সঙ্গে ছাপ মিলিয়ে পুলিশ জঙ্গিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের ডিএনএ পরীক্ষার পর পুরোপুরি তা জানা যাবে। শিগগিরই এ ঘটনায় মামলা দায়ের হবে।
এদিকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য গোপন করায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলেকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সেজাত রউফ অর্ক ওরফে মরক্কো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর ছাত্র ও গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিলেন। আমেরিকান পাসপোর্টধারী অর্ক নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা তৌহিদ রউফ ভাটারা থানায় জিডি করেছিলেন।
বুধবার দুপুরে তার স্বজন ও আমেরিকান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা মরদেহের খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেল মর্গে যায়। র্যা বের নিখোঁজের তালিকায়ও ছিলো অর্কের নাম।
৯ ফেব্রুয়ারি রমনা এলাকায় জঙ্গিদের গোপন বৈঠক চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিনজনের তথ্যের ভিত্তিতে অর্ক ও নিবরাসকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন সময় পুলিশ অভিযানও চালিয়েছে। অর্কর বাবা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে এসে প্রাথমিকভাবে তার সন্তানকে সনাক্ত করেছেন।
নিহত আরেক জঙ্গির নাম জুবায়ের হাসান। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাবা আবদুল কাউয়ুম আল-আমিন বিস্কুট কারখানার ভ্যানচালক। দুই মাস আগে জুবায়ের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হলে সুধারামপুর থানায় ২৫ মে জিডি করে তার পারিবার।
নিহত তৃতীয় জঙ্গি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের ছাত্র সাব্বিরুল হক কনিক। বাবার নাম আজিজুল হক। তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। ছয় মাস আগে নিখোঁজ হন তিনি। তবে তার পরিবার থানায় কোনো জিডি করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই তিনজন নিহতের পরিবার যোগাযোগ করেছে। তারা প্রাথমিকভাবে নিহতদের সনাক্ত করেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পর পুরোপুরি তা জানা যাবে বলে।
মঙ্গলবার ভোরে কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ি'খ্যাত ওই বাড়িতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথদল। এ সময় গুলিতে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে তিনজনের সম্ভাব্য পরিচয় জানা গেছে।