নতুন নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাব জানাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাক্ষাতের সময় চেয়েছে বিএনপি।
সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির— সেজন্য দেশনেত্রীর প্রস্তাবটি অবশ্যই আমরা তার কাছে দেব। এজন্য গতকাল রাতে রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছি এখন পর্যন্ত সময় পাইনি।
আমরা আশা করছি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে আমাদের এই প্রস্তাব তার কাছে উপস্থাপন করার জন্য তিনি আমাদেরকে সুযোগ করে দেবেন। সেই অপেক্ষায় আমরা আছি বলে জানান মহাসচিব।
সংবিধান অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখেন। রাষ্ট্রপতি তো আওয়ামী লীগ দলভুক্ত নন। তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, সেদিন যে দলে ছিলেন, সেখান থেকে তাকে বিদায় নিয়ে আসতে হয়েছে এখন তিনি সকলের রাষ্ট্রপতি
বলে জানান তিনি।
বিএনপিকে এর আগে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা নেয়নি- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, এখন তো অতীতচারিতা করে লাভ নেই। এখন যেটা সমস্যা আছে, তা সমাধান করার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি, সরকার এই সুযোগটা গ্রহণ করবে।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদপূর্তি হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এরপর যে কমিশন দায়িত্ব নেবে, তাদের অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে।
গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নতুন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠনের একটি রূপরেখা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং ‘সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যপ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কয়েকটি ধারা সংশোধনের কথা বলেন।
তিনি বলেন, সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের’ মতৈক্যেনর ভিত্তিতে নতুন ইসি গঠন করতে হবে।
ওইদিনই ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপাসনের প্রস্তাবকে চর্বিত চর্বণ ‘অন্তঃসারশূন্য বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, যারা সংসদের বাইরে রয়েছে, ইসি নিয়ে আলোচনায় তাদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই।