বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শনিবার এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে মাহমুদা আক্তার নামের ওই নারীকে ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ তাকে খোঁজা হচ্ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১০টার দিকে রূপগঞ্জের মুরাপাড়া নামক স্থান থেকে মাহমুদাকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দিন ফারুকীর পূর্বরাজাবাজারের বাসায় যান তিনি।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ রুপগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই নারীকে আটক করে। তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
ফারুকীর ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে রেখে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
জানা গেছে, সেই রহস্যময় নারী: বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডের আগে বিকেলে অপরিচ্ছন্ন শাড়ি পরা এক নারী ফারুকীর বাসায় যান। তিনি এ সময় নিজেকে ফারুকীর ভক্ত বলে পরিচয় দেন। তার নাম আসমা বলেও জানান। পরিবার জানিয়েছে, তারা আগে কখনও ওই নারীকে দেখেননি। তিনি ফারুকীকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং রাতে ওই বাসায় থাকতে চান। তবে বাইরের কারও থাকার ব্যাপারে বাসার মালিকের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানান ফারুকী। পরে ওই নারী বোরকা পরে চলে যান। তার বক্তব্য ও আচরণে অনেক অসংলগ্নতা ছিল। রহস্যজনকভাবে তার আসা ও চলে যাওয়ার কিছু সময় পর হত্যাকাণ্ড ঘটায় ওই নারীর ব্যাপারে স্বজন-ভক্তদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
গতকাল শুক্রবারও এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্রসেনা ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
শনিবারের মধ্যে হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হলে কাল রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রসেনার সভাপতি নূরুল ইসলাম চিশতি।
ফারুকী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মতিন) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
গত বুধবার রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বর বাসার দোতলায় ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আট-নয় জনকে আসামি করে হত্যা ও ডাকাতির মামলা করেন।