রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ৯ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘জাহাজ বাড়িতে’ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের সঙ্গে সোয়াত, র্যাব, ডিবি, ফায়ার সার্ভিস ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল অভিযানে অংশ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদি বই, অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। জঙ্গিরা সবাই জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল হক।
অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কল্যাণপুরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পাঁচ নম্বর সড়কের জাহাজ ব্লিডিং নামের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পুলিশ অভিযান চালায়।
৬তলা ভবনের ৩ তলায় ওঠার পর জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও হাত বোমা ছোড়ে। রাত ২টার পর সোয়াট, র্যা ব, ডিবিসহ ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ নামে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়।
সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে মূল অভিযান শুরু হয়— এ সময় জঙ্গিরা দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করে ও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। সকাল ৬টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলে যৌথবাহিনীর এ অভিযান। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে যৌথবাহিনী।
এছাড়াও আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে হাসান নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ আর বাড়ির মালিক আতাহার উদ্দিনের ছেলে ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দা ৪২ জনকে মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইজিপি শহীদুল হক জানান, নিহতরা সবাই জেএমবির সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ। বলেন, গুলশান হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পরে।
অভিযানের কারণে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাতে গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হলেও পুলিশ দেখে তারা বাড়ির ভেতরে চলে যান।
এলাকাবাসিরা বলেন, রাতে বেশ অতঙ্কের মধ্যেই ছিলেন। ভোরের দিকে একটি স্লোগান দিয়ে গোলাগুলি শুরু হয়।
যৌথবাহীনির অভিযান শেষে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনা স্থলে যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ভেতরে থাকা কয়েকটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। আর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট তথ্য সংগ্রহ করে।
এরপর বিকেলে কড়া পুলিশ প্রহরায় ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গিদের মৃতদেহ ৩টি এম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।