"যুক্তরাষ্ট্র তার দেশকে ইউক্রেনে যুদ্ধের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে", এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল, রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের অজুহাত হিসেবে একটি সংঘর্ষকে ব্যবহার করা।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপে ন্যাটো জোট বাহিনীর ব্যাপারে রাশিয়ার আশঙ্কাকে উপেক্ষা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন সংকট নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্তব্য করলেন পুতিন। খবর বিবিসি অনলাইনের।
ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া সৈন্য সমাগম করলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সীমান্তে প্রায় এক লাখ সৈন্য জড়ো করার পাশাপাশি ট্যাঙ্ক, কামান, গোলাবারুদ এবং বিমান শক্তির সমাবেশ ঘটায় রাশিয়া। এই জন্য পশ্চিমারা অভিযোগ করছে, ইউক্রেন আক্রমণ করবে রাশিয়া। যদিও রাশিয়া বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করছে এবং বলছে ইউক্রেন আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা দেশটির নেই।
প্রায় আট বছর আগে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। আর দক্ষিণ–পূর্ব ইউক্রেনের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল দনবাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
যদিও দনবাসের সহিংসতার ব্যাপারে মস্কো উল্টো ইউক্রেনের সরকারকে দোষারোপ করে বলে, ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ওই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দনবাসের বিশাল এলাকা রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার আক্রমণ কেবল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ হবে না, এটি ইউরোপের যুদ্ধ হবে এবং পুরো মাত্রার একটি যুদ্ধ হবে।