রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়াতে আবারও হুশিঁয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, মস্কো অপ্রয়োজনীয় হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠলে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মুখে পড়বে পুতিন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন আরও বলেন, বর্তমানে দেড় লাখ রুশ সেনা ইউক্রেনকে ঘিরে রেখেছে। এর আগে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন সীমান্তে লাখখানেক রুশ সেনা রয়েছে।
সীমান্ত থেকে রাশিয়ার কয়েকটি সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করে ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা এখনো যাচাই করে দেখা যায়নি।
সে ক্ষেত্রে এখনো ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আশঙ্কা দেখছেন জো বাইডেন। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। রাশিয়াকে কূটনৈতিক তৎপরতায় জড়িত হওয়ার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনে হামলা হলে রাশিয়াকে কঠোর অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। রাশিয়াকে বৈশ্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে প্রস্তুত আছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। যা-ই ঘটুক না-কেন, যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর জন্য তৈরি।
এদিন বাইডেনের অধিকাংশ বক্তব্যই ছিল পুতিনকে নিয়ে। ইউক্রেনকে সদস্য না-করতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে রাশিয়া। ন্যাটো যাতে পূর্বমুখী সম্প্রসারিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন পুতিন।
যদিও বাইডেনের প্রতিশোধের হুমকিতে পুতিনের পিছুহটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো রাশিয়ার জন্য কোনো হুমকি না। রাশিয়াকে হুমকি দিচ্ছে না ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ন্যাটোর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নেই ইউক্রেনে। সেখানে আমাদের এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। আমরা রাশিয়ার জনগণকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছি না। রাশিয়াকে অস্থিতিশীল করছি না।
রুশ জনগণের কাছে বাইডেনের আকুতি, আপনারা আমাদের শত্রু না। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আপনারা একটি রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চাচ্ছেন বলে আমরা মনে করছি না।
‘রাশিয়া হামলা চালালে মানুষ ক্ষয় ও কৌশলগত ক্ষতি হবে ব্যাপক। অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর জন্য দায়ী হবে রাশিয়া। বিশ্ববাসী তা ভুলে যাবে না। তবে যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি মুখোমুখি হবে না যুক্তরাষ্ট্র।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেনে মার্কিন সেনারা যুদ্ধ করতে যাচ্ছে না। কিন্তু রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায়, তবে আমরা জোরালোভাবে জবাব দেব।