গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে। রাশিয়া সেখানে দেড় লাখের বেশি প্রস্তুত রেখেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। আর মার্কিন প্রশাষন দফায় দফায় বিবৃতি দিয়ে সতর্ক করে বলেছে, যে কোন সময় ইউক্রেনে হামলা করবে রাশিয়া। একই রকম আশংকা করেছে পশ্চিমা দেশগুলোও। বিশ্বজুড়ে এই উদ্বেগের মাঝেই এবার উল্টো রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা করে বলসো ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ঘটনাটি স্বীকার করে মস্কো বলছে, এই হামলায় রাশিয়ার সীমান্তের একটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফবিএস) সদস্যরা সীমান্তের ওই স্থাপনা ব্যবহার করতেন। পূর্ব-ইউক্রেনে চলমান সংঘাত ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র উদ্বেগের মাঝে সোমবারের এই ঘটনা রাশিয়াকে আরও উস্কে দেবে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।
রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এফবিএসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ইউক্রেন থেকে ছোড়া একটি অজ্ঞাত প্রোজেক্টাইলের আঘাতে রোস্তভ অঞ্চলে রুশ-ইউক্রেন সীমান্তের ১৫০ মিটার এলাকার আশপাশে এফবিএসের ব্যবহৃত একটি সীমান্ত স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
তবে রাশিয়া হামলা চালানোর পরিকল্পনা অস্বীকার করলেও দেশটি আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রেখেছে বলে জানিয়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান ঠেকাতে কিয়েভের (ইউক্রেনের রাজধানী) ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে রাশিয়া।
যুদ্ধ ঠেকাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন । এদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ইউরোপে ১৯৪৫ সালের পর সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।
সূত্র: এএফপি।