সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যেি সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ দুইজনকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুর পাসপোর্ট নম্বর ব্লক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রোববার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কামরুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরু জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিনকেও বহিষ্কার করতে বলেছে উপজেলা কমিটি।
উপজেলা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক ‘জরুরি সভায়’ এ সিদ্বান্ত হয় বলে জানান।
তিনি বলেন, দৈনিক সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল নিহত হওয়ার ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে মিরু ও নাসিরের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতার উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে— দ্রুত এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হবে।
সভায় সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমানসহ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র মিরু নিজেও গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদর দাবি, প্রতিপক্ষের গুলির জবাবে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছিলেন।
সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী ওই ঘটনায় একটি হত্যাক মামলা দায়ের করেছেন, যাতে মেয়র মিরু, তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া বিজয়কে মারধরের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন, সেখানে মিরু, তার ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই মামলায় পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করলেও মেয়র মিরু পলাতক বলে ওসি রেজাউল হক জানান।
প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক, কলেজছাত্ররা ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা ৩টার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন।
এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন হাকিম। সংঘর্ষের সময় তার মাথা ও মুখে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান। গতকাল তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।