মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে দুই দিনের অভিযান ‘অপারেশন হিটব্যাক’ শেষে জঙ্গি আস্তানায় ৭-৮ জনের দেহবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে— সবাই আত্মঘাতী বোমায় নিহত বলে ধারনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোয়াটের অপরাশেন শেষে ঘটনাস্থলের পাশে ১নং খলিলপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
মনিরুল বলেন, পৌর এলাকার বড়হাটের অন্য জঙ্গি আস্তানা এখনও ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শেষে সেখানে অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরো বলেন, সোয়াত ও বোম্ব ডিজপোজালের ডিসি উপস্থিত হয়েছে। গতকাল সোয়াত আসার পরে অভিযানের গুরুত্ব ও যে ধরনের বিস্ফোরকের ভাণ্ডার সেটি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। টেকটিক্যাল অপারেশন সোয়াত টিম করবে। ভিতরে ১২টা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সোয়াতের বিকেলের অভিযানের আগে মাইকের সাহায্যে আত্মসমপর্ণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হয়। তারা ওই সময়টাতেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে ‘অপারেশন হিটব্যাক’ শুরু হওয়ার ৪ ঘন্টা পরে রাত ১০টার দিকে অপারেশন স্থগিত রাখা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই জঙ্গি আস্তানায় আবার অপারেশন শুরু হয়। এ সময় বাড়িটিকে লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছোঁড়া হয় এবং জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি-বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে ওই বাড়ির ভিতর থেকে আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া না গেলে আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বাড়িটির ভেতরে ও আশপাশে পুলিশ ও সোয়াত অবস্থান করছে।
দুপুর ২টার দিকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটিতে প্রবেশ করে। ক্রাইম সিনের সদস্যরাও ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, মৌলভীবাজারের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানাটিও ঘিরে রেখেছে পুলিশ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াতের নতুন করে অভিযানে সকাল থেকেই বারবার বিঘ্ন ঘটছে।
নাসিরপুরে চলমান অভিযানটি শেষ হওয়ার পরই সেখান থেকে মৌলভীবাজার শহরে অবস্থিত বড়হাট এলাকায় গিয়ে অবস্থিত জঙ্গি আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত একটি বাড়িতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াত অভিযান শুরু করবে। বাড়িটির ২ তলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।