চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬জনে।
এদিকে, উদ্ধার কাজে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে ৬০ সদস্যের একটি টিম বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি পৌঁছানোর পর আজ সকাল থেকে আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
উদ্ধার অভযিানে রাঙামাটিতে সকালে আরো ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান এবং টেকনাফে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬ জনে।
সকালে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযানে মানিকছড়ি থেকে নিখোঁজ সেনাসদস্য আজিজুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম শাম্মী।
মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই।
রাঙামাটিতে উদ্ধার অভিযান বুধবার সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে আসা ৬০ সদস্যের উদ্ধারকারী দলটিও।
এদিকে, রাঙামাটি ও বান্দরবানে আবার পাহাড় ধসের আশঙ্কায় এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে চলে টানা বর্ষণ। পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমবার পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে তিন জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ধস নামে। এতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দেড়শতাধিক মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। আহত হন অনেকে, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও অনেকেই নিখোঁজ।
রাঙামাটি সদরের মানিকছড়ি, শিমূলতলি, ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মানিকছড়িতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে নিহত হন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও চার সেনা সদস্য। মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাঙামাটি সদরের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া কাউখালী, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও ঝুড়াছড়িতে পাহাড় ধসে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, রাউজান ও বাঁশখালীতেও পাহাড় ধসের ঘটনা।
এছাড়া বান্দরবানের কালাঘাটা জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।