মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের শুক্রবার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হলেও কিছুক্ষণ আগে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রাতে কার্যকর হচ্ছে না।
রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন জেলসুপার ফরমান আলী, কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রবেশ করেন জেলসুপার ফরমান আলী, কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওই সময় কারাগারের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
প্রাণভিক্ষা চাওয়া না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার পরই যে কোনো সময় কার্যকর হবে যুদ্ধাপরাধী আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি রাখা হয়েছে।
দফায় দফায় বৈঠক করে নিরাপত্তা, দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য জল্লাদ নির্বাচনসহ মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থাও নিয়ে রাখা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। ফাঁসি কার্যকরের মহড়াও শেষ। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা, প্রস্তুত রয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। এমনকি নির্ধারিত হয়ে গেছে জল্লাদ ও তার সহযোগীদের নাম। নিরাপত্তার স্বার্থে তা গোপন রাখা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বৈঠক করে ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকার জন্য প্রথা অনুযায়ী সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিনিধির নামও চুড়ান্ত।
জেল সুপার ফরমান আলি ফাঁসি কখন কার্যকর হবে তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে এখনো বলেননি।
তবে কারা সুত্র মতে, প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি চাইবেন না, এ প্রশ্নে কামারুজ্মান যে সময় চেয়েছেন, তা তাকে দেয়া হয়েছে। তার সিদ্ধান্ত জানতে দেখা করেছেন ম্যাজিস্ট্রেরা। এখন দণ্ড কার্যকরের আগে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হয়তো পরিবারের সদস্যরা আরেকবার কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।
এদিকে, শুক্রবার সকালে দুই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে এলেও তারা গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকরের আগে কামারুজ্জামান অহেতুক সময়ক্ষেপনের কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যে কারণে কারা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। যে কোনো সময়ই দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়া হবে।