মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছেছে। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রায় পড়ে শুনিয়েছেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে থেকে এ রায়ে কপি কারাগারে পাঠানো হয়।
দুপুরে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের আদেশে প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতি সই করেন। পরে স্বাক্ষরিত কপি প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কপিটি বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের আদেশে প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতি সই করেন। তারা হলেন: প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফিরোজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে আপিল বিভাগের কনিষ্ঠ বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী রায়ের খসড়াটি তৈরি করেন। পরে ৩৬ পাতার ওই রায়ের কপি তিনি উপস্থাপন করেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার কাছে। বিধি অনুসারে রায়টি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর কাছেও পাঠানো হয়। চার বিচারপতি খসড়াটি সই করার পর চূড়ান্ত রায় তৈরি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কামারুজ্জামানের ৩৬ পৃষ্ঠার রিভিউ খারিজের আদেশে চার বিচারপতি সই করেছেন। এর আগে খসড়াটি প্রধান বিচারপতিসহ রায় প্রদানকারী অন্য বিচারপতিদের পর্যালোচনায় ছিল।
বিচারপতিরা সেটি চূড়ান্তের পর তাতে স্বাক্ষর হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে রায়ের অনুলিপি পৌঁছালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেবে কারা কর্তৃপক্ষ।
তবে তার আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ পাবেন কামারুজ্জামান। দোষ স্বীকার করে যদি তিনি সেটা না করেন। আর আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে সরকার যে কোনো মুহূর্তে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারে।
গত সোমবার কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এরইমধ্যে কামারুজ্জামানের সঙ্গে তার পরিবারের সাক্ষাত পর্বটি শেষ হয়েছে।