মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধী জামাত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সোমবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
ফলে তার ফাঁসি কার্যকরে আইনি আর কোনো বাধা নেই। প্রথা অনুযায়ী আত্মীয়স্বজনদের বিদায়ী সাক্ষাতের পর্বও শেষ হয়েছে। এখন বাকি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন।
দোষ স্বীকার করে যদি তিনি সেটা না করেন সেক্ষেত্রে সরকার যে কোনো মুহূর্তে দণ্ড কার্যকর করতে পারে। আর আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশে বিচারপতিরা সই করেননি। তাই আদেশটিও কারাগারে পৌঁছায়নি। কাল- মঙ্গলবার রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে আছেন যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান। আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপেও হেরে গেছেন এ যুদ্ধাপরাধী। এখন কেবল তিনি সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মাফ করে দেয়ার আবেদন করতে পারেন। এ ধরনের আবেদন অবশ্য তার আগে একই অপরাধে ফাঁসি হওয়া কাদের মোল্লা করেননি। কারণ দোষ স্বীকার করলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যসব মামলায় জামাত নেতাদের অপরাধের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
আর অপরাধ স্বীকার করলেও রাষ্ট্রপতি সেই আবেদন নাকচ করে দিলে সরকার যে কোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করতে পারে। তার আগে রায়ের কপি কারাগারে যেতে হবে। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ আসামিকে রায় পড়ে শোনাবে। এ প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তবে ক্ষমার আবেদন করলে সেটি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাস্ট্র মন্ত্রালয়, আইন মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আবার সেভাবেই কারা দপ্তের ফিরে আসবে।
তবে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করতে জেল কোডের বিধান প্রযোজ্য হয় না বলে জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।
এদিকে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সাটানো হয়েছে সামিয়ানা প্রস্তুত করা হয়েছে জল্লাদের একটি গ্রুপকে। পাশাপাশি কারাগারের আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে বিকেল কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেন।