গৌরবের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে এবারের ঈদ যেন এক ‘অনন্য উপহার’। রাজধানী ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে বাড়ি ফিরতে এতটুকু ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের। আরেক পথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার পুরনো ‘বিভীষিকা’ তো এখন গল্প মনে হচ্ছে যাত্রী-চালকদের কাছে।
ঈদ এলে নদীপথে প্রায় প্রতি বছরই বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যেতো এই দুই পথে। কিন্তু এবার দুর্ভোগের সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে সায়েদাবাদ, গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার পর ঢাকা থেকে মাওয়ার পথে যেমন যানজটের খবর পাওয়া যায়নি, তেমনি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটও ছিল ‘প্রায় খালি’।
দেশ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঈদঘিরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ রুটে এখন ২২টি ফেরির সঙ্গে চলছে ২২টি লঞ্চ।
যশোরগামী যাত্রী মনসুর আলী বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে দেশ টিভিকে বলেন, ‘ছুটি পেয়ে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে গাড়ির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। সবাই পদ্মা সেতু দিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। সাভার থেকে পাটুরিয়া ঘাটে লোকাল বাসে ভোগান্তি ছাড়াই এসেছি। নৌ-রুটেও কোনো ভোগান্তি নেই। দৌলতদিয়া প্রান্তে গিয়ে যশোরের বাসে উঠবো। এসব স্বপ্ন মনে হচ্ছে।’

পদ্মা সেতু
জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় এই রুটে ৬০ কোম্পানির প্রায় দেড় হাজার বাস নিয়মিত চলাচল করছে।
এসব রুটে দূরত্ব কমেছে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। সেই সঙ্গে ফেরি পারের ঝক্কি না থাকায় প্রায় ২ ঘণ্টা কম লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বিআরটিসি প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ রুটে বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ধীরে ধীরে রুটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

পদ্মা সেতু
ঈদের আগে পদ্মা সেতু দিয়ে আধুনিক ও উন্নতমানের বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।
বরিশাল থেকে আগে বিআরটিসির বাসগুলো কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতো। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত ২৬ জুন থেকে সরাসরি দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা ঢাকা পৌঁছে যাচ্ছেন।
বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস ডিপোসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রতিদিন ১৫টি বাস কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত যাতায়াত করত। এরপর যাত্রীরা লঞ্চ, ফেরি অথবা স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতেন। সেই ভোগান্তির অবসান হয়েছে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। ২৬ জুন থেকে বরিশাল, ভান্ডারিয়া, বাউফল ও কুয়াকাটা, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছে বিআরটিসির বাস।
এসব রুটে প্রতিদিন ১৫টি বাস চলাচল করছে। ঢাকা থেকেও তেমনি ১৫টি বাস ছেড়ে যাচ্ছে বরিশালের উদ্দেশে। এর মধ্যে বরিশাল নথুল্লাবাদ বিআরটিসি ডিপো থেকেই ছাড়ছে ১১টি বাস। বাসগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া সব-কটির শীতাতপ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরিশাল বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে বরিশাল থেকে ঢাকায় অর্ধশত বিলাসবহুল এবং ১০০-এর মতো সাধারণ বাস চলছে। ধীরে ধীরে সব কোম্পানিই বাস চালু করবে।