মাটির নিচে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে শুনেই উচ্ছ্বসিত হওয়া যাবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক- ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, আপাতত এলএনজিই ভরসা। গভীর সাগরে গ্যাস পেলেও ১০ বছর সময় লাগবে, ততদিন আমরা কী করবো?
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জ্বালানি বিভাগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমুখী জ্বালানি সমৃদ্ধ আগামী’।
বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রাইসিস চলছে। সে জন্য আমরা সাশ্রয়ী হবো, কিছু লোডশেডিং করবো। আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানিই ভরসা।
ড. তৌফিক- ই-ইলাহী চৌধুরী আরও বলেন, এক সময় বলা হলো বাংলাদেশ গ্যাসে ভাসছে, ওইসব বিষয়ে আশাবাদী হওয়া ঠিক, কিন্তু বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়া ও নির্ভর করা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির অনেক ব্যাপার আছে। অনেকে বলেন তিনটি কূপ খনন করলে একটিতে গ্যাস পাওয়া যায়। কিন্তু কতটুকু গ্যাস পাওয়া যায়। বাপেক্স গত ৫ বছরে ৩৪টি কূপ করেছে।
তিনি বলেন, সাগর থেকে কনোকো ফিলিপস ছেড়ে গেলো কেনো, পসকো দাইয়ু কেন ছেড়ে গেলো? সেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। অনেকেই বলেন- মিয়ানমার সাগরে গ্যাস পাচ্ছে। কিন্তু গত ১০ বছরে মিয়ানমার তেমন কোনো গ্যাস আবিষ্কার করতে পারেনি। যা করেছে সব আগের।
এই জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় এসেছে, এটাই শেষ না আরও আসতে পারে। উন্নত দেশও তাদের জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। জার্মানি পুরনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করছে। আমরা যখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করলাম, পরিবেশবাদীরা বললো পরিবেশ শেষ করে দিলাম। আমাদের প্রযুক্তি উন্নত প্রযুক্তি এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে না। অনেকে শতাংশ বলেন, শতকরা জিনিসটা ব্যবহার করবেন না। জার্মানিতে ৬০ হাজার, আমেরিকায় ২ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কয়লা দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসনের সভপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম ওয়াসিফা আয়শা খান এমপি।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বিদ্যুৎসচিব মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন।