চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজস্ব সম্পদ অনুসন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস ২০২২ উপলক্ষে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচুর সম্পদ কিন্তু এক্সপ্লোরেশনের বাকি আছে। মধ্য মেয়াদী ও অল্প সময় মেয়াদী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আমরা যত দ্রুত ওই সিদ্ধান্তের কাছে যাবো। আমরা যদি আমাদের সম্পদের কাছে থাকতে পারি তাহলে এই ধরনের বিপদ আপদের মোকাবিলা করতে পারবো।
তিনি বলেন, জানি না, ভবিষ্যতে আরও কত বড় বিপদ আসতে পারে। আমাদের হাতে সময় নেই এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এই অল্প সময়ে মধ্যে আমাদের সমস্ত যা আহরণ করা দরকার সে কাজ করতে হবে। এটি আমাদের আজকের দিনের শপথ হওয়া উচিৎ।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজস্ব তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে সরকার গত শুক্রবার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আট মাস আগে ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। এরপর থেকে আবারও নিজেদের গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরালো করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বাংলাদেশে মোট ২৮টি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। এরমধ্যে ২০টিতে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। আর ভূমি ও সাগরে মোট অনুসন্ধান ব্লক রয়েছে ৪৮টি। এরমধ্যে ভূমিতে ২২টি ও ২৬টি সাগরে। ভূমি থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ দিন দিন কমছে। আর সাগরে অনুসন্ধান ও উত্তোলন নেই বললেই চলে। কিন্তু বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা খাত সংশ্লিষ্টদের।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াশেকা আয়েশা খান, বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান, বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান।