নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন ব্যবস্থায় নজর নেই। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামও বিশ্ববাজারে অকাশচুম্বী। তাই আমদানি নিয়ে চিন্তা। ওদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড হারে কমছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ‘কয়েক মাসের’ মধ্যে সংকট কেটে যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সুনামগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, এক-দেড়মাসের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে। একই কথা বলছেন অন্য মন্ত্রী-উপমন্ত্রীরাও।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম দেশ টিভিকে বলেছেন, ‘শুধু বিদ্যুতের কথা বললে আগামী চারমাসে সমস্যা কিছুটা কাটতে পারে। কারণ তখন আবহাওয়া ঠাণ্ডা হবে। আরও কয়েক মাস পর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিছু বিদ্যুৎ চলে আসবে। সরকার বলছে ডিসেম্বরের মধ্যে রামপাল আসবে, তারপর পায়রার ট্রান্সমিশনের জন্য যে অর্ধেক বিদ্যুৎ আমরা আনতে পারছি না, সেটাও চলে আসবে। তবে আমি মনে করি ডিসেম্বরের মধ্যে হবে না। এগুলো পেতে পেতে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে যেতে পারে।’
বিদ্যুৎ বাদে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় বদরূল ইমামের পরামর্শ এমন, ‘যে কারণে সংকট দেখা দিয়েছে, এখন তার উল্টো কাজ করতে হবে। স্বল্প অথবা দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাসের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে পারলে সংকট অনেকটা কেটে আসবে। মূল সমস্যা জ্বালানি। জ্বালানি কিনতে গিয়ে অন্য অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’

তেলের আগের দাম এবং নতুন দামের তালিকা
বদরূল ইমাম নিজস্ব গ্যাসের দিকে নজর দিতে বললেও সরকার এলএনজি আমদানিতেই ‘আপাতত ভরসা’ রাখতে চাইছে।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জ্বালানি বিভাগ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক- ই-ইলাহী চৌধুরী তেমনটিই বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রাইসিস চলছে। সে জন্য আমরা সাশ্রয়ী হবো, কিছু লোডশেডিং করবো। আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানিই ভরসা।’