সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ, গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার অভাবের কারণেই বাংলাদেশে ভারতের মতো অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।
রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে দেশ টিভিকে তিনি এ কথা বলেন।
সাখাওয়াত বলেন, ইসি যদি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে তাহলে বাংলাদেশের পক্ষেও ভারতের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব।
ভারতে ১৬তম লোকসভা নির্বাচন চলছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের এ দেশে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৮১ কোটি ৪৫ লাখ। নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে।
ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে নির্বাচন সম্পর্কিত সব কিছুতে ইসিই মুখ্য ভূমিকা রাখে। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। ইসিকে শুধুমাত্র সহযোগিতা করে তারা।
দীর্ঘ দিনের গণতান্ত্রিক চর্চা থেকেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার। একইসঙ্গে ভারতের ইসি যথেষ্ট স্বাধীন ও শক্তিশালী বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত বলেন, ‘রাজনৈতিক কালচার, রাজনৈতিক দলগুলো যেমন পুরোনো দল কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলো ভেতরে যে ধরণের একটি ডেমক্রেটিক প্রোসেস আছে, ভারতের যুডিশিয়াল যেভাবে স্বাধীন এবং ইসিকে যেভাবে তারা সাপোর্ট করে এ সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু ভারতের ইসির যে আইন এবং সবকিছু ইমপ্লিমেন্ট করা বা এটাকে প্রয়োগ করাতে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট কঠোর ভূমিকা পালন করে।’
বাংলাদেশের আইন ও ভারতের আইনের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই উল্লেখ করেন তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশেও এভাবে নির্বাচন সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় আমাদের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ভারতীয় ক্ষমতা থেকে বেশি কিন্তু আইনের প্রয়োগ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচার এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ইসির সঙ্গে যে সহযোগিতা করা প্রয়োজন, সেটার অভাব রয়েছে।’