দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন বিষয় নয়। সম্প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের হামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। সিনিয়র সাংবাদিক ও চিকিৎসকরা মনে করেন এর ফলে চিকিৎসকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
তাদের মতে, সংবাদকর্মী আর চিকিৎসকদের মধ্যে বোঝাপোড়ার অভাবেই এমন ঘটনা ঘটছে। শক্রভাবাপন্ন না হয়ে পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব থাকলেই এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
সম্প্রতি রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ডাক্তারদের হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে মনে করছেন সিনিয়র চিকিৎসক ও সাংবাদিক নেতারা।
গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের দূরত্ব কমাতে পারলেই এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বার্ণ ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেইন ইমাম ইমু।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ চিকিৎসকদের থেকে মনে হচ্ছে, এটি পুরোটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। আমরা আসলে আমাদের পেশায় দায়িত্বে কার কতোটুকু দায়িত্ববোধ, সে পরিচয়টি মনে হয় আমরা আমাদের জায়গা থেকে দিতে পারছি না।’
আর চিকিৎসক নেতারা বলছেন, প্রতিটি হাসপাতাল প্রধানের উচিৎ সেখানকার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা। ভুল বোঝাবুঝির জের ধরে যেন এ ধরনের সহিংস ঘটনা না ঘটে সেজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিৎ।
এদিকে, বিএমএর মহাসচিব ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘ইদানিং যে কয়েকটা ঘটনা ঘটলো এটা নিশ্চয় সাংবাদিক ভাইদের কাছেও কাম্য নয়, আমাদের কাছেও কাম্য নয়। আমরা এগুলির নিরসন চাই, শুধু নিরসন নয় বরং আমরা চাই ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’
সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, গণমাধ্যম কর্মীরা পেশাগত প্রয়োজনে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে কোনো তথ্য চাইলে তাদেরকে এ ব্যাপারে সহায়তা করা উচিৎ। পরস্পরের সাহায্য নিয়েই সবাইকে কাজ করতে হবে।
সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধেই রিপোর্ট করে তাতো না ডাক্তাররা ভালো কাজ করলে সেটাওতো আমরা প্রচার করি কাজেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ পেশাদারিত্বের জায়গাতে অটল থাকা এবং আমরা যেটা বলতে চাচ্ছি তথ্যের একটা অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে মার দিয়ে কোনা লাভ হবে না।’
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ফটোসাংবাদিক ও টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা পারসনরা হামলার শিকার হলেও এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি বলে অভিযোগ সংবাদকর্মীদের। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
টিসিএর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো কারণেই হোক সাংবাদিকদের উপরে বিশেষ করে আমাদের ক্যামেরা পারসনদের উপরে যদি কোনো রকম সমস্যা হয় আমরা পুরো বাংলাদেশের ক্যামেরা পারসনরা ধর্মঘট করবো।’