যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা ফোরামের (টিকফা) প্রথম বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) সুবিধা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে দুই দেশের ভুমিকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাওয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি নজর দেয়া দরকার সরকারের। এক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ হলো দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য,যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারনে প্রভাব ফেলতে লবিস্ট নিয়োগ করা জরুরি।
গত বছর নভেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষর এবং চলতি বছর জানুয়ারি থেকে টিকফা কার্যকর হওয়ার পর সোমবার প্রথমবারের মতো ঢাকায় বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে স্থগিত হওয়া জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার এবং সুনিদির্ষ্ট কিছু পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তারা।
এ বৈঠকের উদ্যোগকে দেশের কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ স্বাগত জানালেও জিএসপি সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সুবিধা চাচ্ছি সুতরাং যার সুবিধা দেয়ার কথা তাদের ভাবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে এবং সেক্ষেত্রে নানা রকমের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরামর্শ চলে আসে।’
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘জেএসপি সংক্রান্ত বিষয়ে কমপ্যাক্ট ও ১৬টি পয়েন্টের ক্ষেত্রে মধ্যমমানের বা তার থেকে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। তবে ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে মনে হলেও কার্যকর জায়গায় মনে হচ্ছে যে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।’
শুল্কমুক্ত সুবিধা বা কোটামুক্ত সুবিধা দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে আলোচনা না করে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
ড. মোয়াজ্জেম আরো বলেন, ‘শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুপক্ষীয় ফোরাম ডাব্লিউটিওতে সেটি নিয়ে আলোচনা করছে। এখানে দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে এ বিষয়টি করতে গেলে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্যান্য যেসমস্ত দেশগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে না বিশেষ করে এশীয় অন্যান্য স্বল্পন্নত দেশ যারা সুবিধা বঞ্চিত তাদের সঙ্গে মিলে যদি একটি ফোরামের মাধ্যমে তোলা যায় সেটি।’
আর মির্জা আজিজের মতে, বাংলাদেশের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের চেয়ে তাদের বিনিয়োগ যাতে এদেশে বাড়ে সেরকম পরিবেশ তৈরি করা।
মির্জা আজিজ বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রেডের চাইতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা আর একটু উজ্জ্বল মনে করি। তবে এক্ষেত্রে আমাদেরও একটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিৎ।’
তারা দুইজনই মনে করেন, বাংলাদেশের উচিত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে সরকারের লবিস্ট নিয়োগ করা দরকার।