রাজধানীর কল-কারখানা আর গৃহস্থালীর ১০ লাখ ঘন মিটারেরও বেশি পয়োঃবর্জ্য বুড়িগঙ্গা ভয়াবহ দূষণের শিকার। বাদামতলী স্টিমার ঘাট থেকে নবাবগঞ্জ পর্যন্ত পুরো তীর এবং নদীর কামরাঙ্গীর চর কেরানীগঞ্জ অংশেও একই চিত্র।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, ঢাকা ওয়াসা আর সিটি করপোরেশনের ১৫১টি সুয়ারেজ পথ দিয়ে বর্জ্য মিশছে নদীতে। বর্জ্যের এসব উৎস মুখ বন্ধ করে দূষণ রোধে ব্যবস্থা না নিলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
বর্জ্যের উৎস নিয়ে জরিপে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ১১৫টি ড্রেন দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ নদীতে বর্জ্য মেশার সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে ওয়াসার ড্রেনই ৬৯টি। তাই পয়োবর্জ্যের এসব পথ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে এরইমধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠানকেই চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএয়ের ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএয়ের নিয়ন্ত্রিত নদীকে ওয়াসা গৃহস্থলী বর্জ, কল-কারখানা বর্জ দিয়ে দূষিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনকে বন্ধ করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।’
এদিকে, ওয়াসার কোনো সুয়ারেজ পথ দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য যায় না আর যদি উন্মুক্ত লাইন দিয়ে বর্জ্য মিশে থাকে সে দায় ওয়াসার নয় বলে জানিয়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার সরাসরি কোনো বর্জই বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলছে না। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, বর্ষার পানি যাওয়ার যে পাইপ লাইন, সেই পাইপ লাইনের মধ্যে মানুষ তার বর্জ রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে ফেলছে। যদি বর্জ ফেলা হয় তাহলে দায়-দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার কিভাবে হলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটি ম্যাজেস্ট্রেসি রয়েছে। যেই পরিমান মানুষ এ কাজটি করে, সেই পরিমান ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা ওয়াসার কেনো বাংলাদেশ সরকারেও নেই।’
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতেই নারাজ সিটি করপোরেশন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় গিয়েই বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর চারপাশের নদী দূষণ ও দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বেশ ঘটা করে উদ্ধার কাজ শুরু করে। গত তিন বছরে এ কাজে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি।
তারপরেও বুড়িগঙ্গার অবস্থা একটুও বদলায়নি। গৃহস্থালী, হাসপাতাল আর কলকারখানার বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা এখন মৃতপ্রায় বিষাক্ত এক জলাধার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দাঁয় এড়ানোর চেষ্টায় ভয়াবহ দূষণের কবলে তুরাগ, শীতলক্ষ্যা আর বালুও।