মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে উচ্চ আদালতে চলমান দলটির নিবন্ধন বাতিলের মামলায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন তিনি।
তবে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে, অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগে চলমান মামলাটির নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ট্রাইব্যুনালে জামাতের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হলে তা ফলপ্রসূ হবেনা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জামাতের সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে এ পর্যন্ত দেয়া ৫টি রায়ের পর্যবেক্ষণেই উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এ পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখেই জামাতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
২৭ মার্চ জামাত নিষিদ্ধের সুপারিশ করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশুলির কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেন,
*আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ এ সংগঠনের শাস্তির বিধান নেই।
*আপিল বিভাগে জামাতের নিবন্ধন বাতিল নিয়ে একটি মামলা চলমান থাকায়, ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো অভিযোগ আনা হলে মামলাটিতে প্রভাব পড়বে। এবং
*সংগঠনের বিচারে যেহেতু সংগঠনের নিয়ন্ত্রককে শাস্তি পেতে হবে, তাহলে ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের আওতায় আসা জামাত নেতাদের শাস্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আইনমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিশিষ্টজনেরা বলেন, আইনমন্ত্রীর এসব বক্তব্য প্রকারান্তরে জামাতকেই সাহস জোগাবে। দুটি মামলার সম্পূর্ণ হওয়ায় একটির জন্য অন্য মামলায় কোন প্রভাব পড়বেনা বলেও মনে করেন তারা।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, তার এ বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর আইনমন্ত্রীর বক্তব্যেকে সঠিক বলেই মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ট্রাইব্যুনাল আইনে মামলা হবে কি হবেনা সেটি আইনমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবিলম্বে জামাত নিষিদ্ধসহ শান্তির দাবি জানিয়েছে তারা।