গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিহারি ক্যাম্প ও বস্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে কেন্দ্র করে পুরনো বিরোধের জের ধরেই রাজধানীর মীরপুরের কালশীতে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত হয়েছেন দশ জন।
এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরোধও ঘটনার রেশ বাড়িয়েছে। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেছেন দোষী প্রমাণিত হলে রাজনীতি ছেড়ে দিবেন।
এদিকে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন শনিবার কালশীতে বিহারি-বাঙালিদের নিয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ করে সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
মীরপুরে কালশীতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধভাবে বস্তি গড়ে তুলেছেন কর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের সদস্য ও বাঙালিরা।
বিহারিরা জানান, কালশীর নতুন রাস্তা হওয়ার পর তারা পশ্চিম পাড়ের ক্যাম্পের বাইরে রাস্তার পূর্ব পাড়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জলাভূমি দখল করে আবাস গড়ে তোলা হয়েছে।
এক বাহারি জানান, ‘ছোট বেলায় আমার মা মারা যান। আমি বড় হয়ে বিয়ে করেছি, আমার সন্তান হয়েছে, কিন্তু জায়গা তো বাড়েনি। ৯/৯ আর ৮/৮ এই জায়গাই রয়ে গেলে।’
কখনো কখনো তা আবার বিক্রিও করা হয়েছে বাঙালিদের কাছে।
বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারী বাঙালি দেশ টিভিকে বলেন, ‘এই জায়গা বিহারিদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। একটি রুম দেড় লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে।
বিহারি বস্তির পাশে স্থানীয় সাংসদের ঘনিষ্ঠ জনৈক রাজু গড়ে তোলেন আরেকটি বস্তি। যা 'রাজুর বস্তি' নামে পরিচিত। রাজুর বস্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বিরোধ।
এক বিহারি বলেন, ‘এখানে ৪২২টি পরিবার ছাড়া এক ঘর যদি বাড়তি বিদ্যুৎ দেয়া হয় তাহলে সার্কিট পড়ে যাবে, পড়েও যায় তারপরও এমপি সাহেব বলেন, আজকে বিদ্যুৎ দাও কালকে সমাধন হবে। এ নিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে এমপি সাহেবের গায়ে ধাক্কা লাগে। তখন এমপি সাহেব বলেন, তোমাদের কে নেতা আছে এটা ২ দিনের মধ্যে সব বুঝতে পারবে তোমরা।’
গত ১৪ জুন শবে বরাতের ভোর রাতে আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় জড়িতদের চেনা সত্ত্বেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।
প্রচার সম্পাদক, এসপি জে আর সিখোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকে চেষ্টা করছেন উনাদের নাম না বলি, আমাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকব, তবে আমার ওপর আক্রমণ হতে পারে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা দাবি করেন, ঘটনার দিন দুপুর পর্যন্ত তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। নির্বাচনে তার সঙ্গে পরাজিত এক আওয়ামি লীগ নেতাই এসব করছেন বলে তার পাল্টা অভিযোগ।
তিনি আরো বলেন, পূর্বে সত্য বলেছি এখনো বলবো, বছরে একটা রাত, আমি সেই রাতে জেগেছিলাম, ইবাদতের মধ্যদিয়ে কেটেছে। আমি পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। উঠেছি পরদিন সোয়া ১২টায়। বিএনপি, জামাত ও আমাদের অল্প কিছু লোক তাদের সঙ্গে আন্দোলনে একাত্মা প্রকাশ করেছে। আজকে তারাই বলছে ইলিয়াস মোল্লা দায়ী। তার দাবি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
এদিকে, শনিবার পুলিশ প্রশাসন বিহারি- বাঙালি সম্প্রীতি সমাবেশ করে গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।