নগরসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা আর অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেই রাজধানী জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ অনুযায়ী নগর উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে এ জলাবদ্ধ পরিস্থিতির জন্য পরস্পরকে দুষছে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা।
এদিকে, দিনভর বৃষ্টিতে ঢাকার নিচু এলাকাগুলোতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। আর সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় নিয়মিত যানজট আরো দুর্বিসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনজীবন।
আর বর্ষায় এ বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিযেছে, এ পরিস্থিতি আরও দু-একদিন থাকবে।
রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা দেখে মনে হবে বন্যা বা ঢলের পানি এসে জমেছে। আসলে তা নয়। এক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতেই রাজধানীর নিচু এলাকাগুলোর বেহাল এ অবস্থা।
রাজধানীর মৌচাক মার্কেট থেকে মালিবাগ, শান্তিনগর হয়ে কাকরাইল আর এদিকে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো রাস্তাই থইথই পানির নিচে।
ডুবে যাওয়া সড়কে চলাচল করতে গিয়ে যানচালক আর যাত্রীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। সাহস করে নিজেদের গাড়ি করে যারা বের হয়েছেন তাদের দুর্ভোগ ছিলো যেন সবচেয়ে বেশি। আর ঘুম থেকে ওঠেই দুর্ভোগের মুখে পড়েছে স্কুলমুখী শিশুরা। নর্দমা, ড্রেন আর স্যুয়ারেজ লাইনের আবর্জনা মিলেমিশে রাজপথ ভাসানো পানিতে একাকার। পানি নিষ্কাষণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার হাল যে কি ভয়াবহ তা বোঝা যায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে। জলজট কমাতে খুলে রাখা ড্রেনের মধ্যেই পড়ছে একের পর এক যানবাহন।
বর্ষায় রাজধানীর এ পরিস্থিতির জন্য দখল, দুষণ আর সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসার চরম সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন বুয়েটের নগর উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম।
কিন্তু নগরসেবার দায়িত্বে এতোগুলো সেবাসংস্থা থেকেও কেন এই পরিস্থিতি? এমন প্রশ্নে সিটি করপোরেশন আর ওয়াসার শীর্ষকর্মকর্তারা দুষছেন পরস্পরকে।
সিটি করপোরেশন, দক্ষিণের প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খান, ও ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর এসময়ের বৃষ্টিপাতকে স্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেছে। আগামী কয়েকদিন মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এস এম কামরুল হাসান।