ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন নির্বিঘ্নে সমুদ্রে তেলগ্যাস অনুসন্ধান চালাতে পারবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পেট্রোবাংলা অগভীর ও গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর দেশটিভিকে জানিয়েছেন, সমুদ্রে অন্তত একটি ব্লকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন-বাপেক্সের মাধ্যমে অনুসন্ধানের ইচ্ছা তাদের রয়েছে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাপেক্সের মাধ্যমে নয়, অনুসন্ধান চালাতে হবে আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে উৎপাদন বণ্টন চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারনের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের উপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অগভীর ও গভীর সমুদ্রের ২৩টি ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে আর কোনো বাধা রইলো না। ফলে পেট্রোবাংলা এখন অগভীর ও গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে অন্তত একটি ব্লকে নিজস্ব উদ্যোগে অর্থাৎ দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সের মাধ্যমে অনসুন্ধানে আগ্রহী বলে জানান ড. হোসেন মনসুর।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ হবে আত্মঘাতি। সমুদ্রের ব্যয় বহুল অনুসন্ধান বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে উৎপাদন বন্টন চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারনের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।