ঈদের আগে বিএনপির দল গোছানোর কার্যক্রমে বড় উদ্যোগ বলতে—ছিল ঢাকা মহানগর কমিটির পুনর্গঠন। সেই নতুন কমিটি হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন নেতারা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঘোচাতে চান বিগত দিনের অপবাদ। দলের মধ্যম সারির এবং তৃণমূল নেতারাও প্রস্তুত আন্দোলন জমিয়ে দিতে।
তবে নেতৃত্বে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের তুলে আনার কাজটি এখনো হয়নি বলেই মত তাদের। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির লক্ষ্যই ছিলো নির্বাচন প্রতিহত করা। অন্যদিকে, সরকারের মূল টার্গেট ছিলো ঢাকাকে আন্দোলনের প্রভাবমুক্ত রাখা। কিন্তু ঢাকায় কোনো প্রকার প্রতিরোধ গড়ে তোলা তো দূরের কথা রাস্তায়ই নামতে পারেনি দলের নেতা-কর্মীরা। ঢাকায় যে আন্দোলন গড়ে তোলা যায়নি তা স্বীকারও করেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
নেতাদের উদ্দেশ্য খালেদা জিয়া বলেন, ‘ঢাকা সিটিকে বলবো গতবছর যে আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলন করেছেন সময়মতো যে আন্দোলন করা ছিল সেখানে আপনাদের ত্রুটি ছিল, সেটা আপনাদের স্বীকার করতে হবে।’
ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করতে না পারার ব্যর্থতা এবং ঈদ পরবর্তী আন্দোলন জোরদার করতে ঢাকা মহানগরের আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে।
পূর্বের কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, সরকারের কঠোরতার কারণেই তারা বিগত সময়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি।
তিনি বলেন,‘আমরা যখন সমাবেশ করতে যাই, করতে দেয়া হয়নি, মিছিল তো প্রশ্নই উঠে না। বরং নির্বিচারে গুলি করেছে। তাহলে বিএনপি করবেটা কি? আজকে তাহলে কি সরকারই ঠিক করে দিবে, পাশাপাশি বিএনপি কি করবে। বহু রাজনৈতিকদলকে আন্ডারগ্রাইন্ডে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। বর্তমানে একদলীয় সরকার কায়েম করার জন্য বিএনপিকে উস্কে দিয়ে দলকে সেদিকে ঠেলে দেয়া যায় কিনা সেচেষ্টা করছে।’
তবে নতুন কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করে তারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবো ঢাকা মহানগর বিএনপিকে। তার পরই আন্দোলনকে আমরা যোক্তিক পরিণতি হয় অর্থাৎ বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবো ঢাকা মহানগরীর সর্বস্থরের মানুষকে নিয়ে।’
আন্দোলন সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়ে মধ্যম সারির ও তৃণমূল নেতারা সফলতার পূর্বশর্ত হিসেবে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘কার্যকর আন্দোলন করতে হলে অবশ্যই কার্যকর নেতৃত্ব গঠন করতে হবে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নেত্রী সে বিষয়ে অবগত আছেন। কৌশলগত কারণে অনেক আগে থেকে আমাদের কাছে খবর আসার কোনো কারণ নেই। কারণ সেখানে সরকার তার অপকৌশলে প্রতিরোধ করতে পারে। যার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য না আসলেও আমাদের কাছে এতোটুকু তথ্য আছে ডু অর ডাই এ আন্দোলন এ অবৈধ সরকারকে হটানোর জন্য করতেই হবে।’