বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন— এমন অভিযোগ করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
অন্যদিকে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞার ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও মামলাজটের সুযোগে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার নামে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলীর।
এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। এসব সমস্যা সমাধানে ইউজিসিকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত করা জরুরি বলে অভিমত কমিশন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৯টি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকতে হবে এমন আইন করা হলেও এখনও বেশির ভাগই পরিচালিত হচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজধানীসহ সারাদেশে রয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা। নেই উচ্চ শিক্ষার পর্যাপ্ত উপকরণ আর অভিজ্ঞ শিক্ষক। সেইসঙ্গে রয়েছে মালিকানার দ্বন্দ্ব, একাধিক ট্রাস্টি বোর্ড, অনিয়ম, ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা।
এসব বিবেচনায় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ৬ মাস আগে বেশ কয়েকটি বিরোধপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করলেও সেই কার্যক্রম ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে এক বিজ্ঞপ্তি দেয় ইউজিসি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী বলেন, ‘একবার কোর্টে গেলে এ সিদ্ধান্তগুলো খুব তারাতারি হয় না। এটা শুধু বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা শিক্ষা মন্ত্রনালয়, এটা স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয় তাদেরও আমাদের সহযোগিতা দরকার। এই যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলো এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা বেড়ে গেছে তাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এখন যে জনবল, এখন যে ক্ষমতার যে পরিধি তা অবশ্যই বাড়াতে হবে।
অভিযুক্ত ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ইবাইস, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, দারুল ইহসান, প্রাইম, কুইন্স, নর্দান, অতীশ দীপঙ্কর, পিপলস, বিজিসি ট্রাস্ট, গ্লোবাল, সাউদার্ন ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি। এরমধ্যে প্রাইম, গ্লোবাল ও ইবাইস- এ ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
কিছু প্রতিষ্ঠান আইন না মেনে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন বেসরকারি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, ‘যারা আইন মানবেন না আপনাদের হাতে আইন আছে আপনারা আইনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। এ ব্যপারে আমরা তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবো না। বিভ্রান্তির করণেই বলি অন্যরা বিভ্রান্ত হয় এটা খুব খারাপ জিনিস। ৩৭টা সরকারি ও স্বায়িত্বস্বাসিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৭৯টা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এতোগুলো বিশ্ববিদ্যালয় দেখভাল করার ক্ষমতা ইউজিসির নাই।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখভাল করার জন্য উচ্চ শিক্ষা কমিশনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন করছেন সংশ্লিষ্টরা।