বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ১৫ আগস্টকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্র-জাল’ ধারাবাহিকে এবারের চীন প্রসঙ্গ। এটা সবারই জানা মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। এমনকি ওইসময় অস্ত্র সহায়তাও দিয়েছিল পাকিস্তানকে। আর আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে তারা স্বীকৃতিও দেয়নি। খুনি ফারুক ব্যাংককে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিল চীন তাদের সঙ্গে আছে। আর ভারত হস্তক্ষেপ করলে চীনও বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন সরকারের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ওই্ সময় তারা সরাসরি পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়েও সহায়তা করেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওইসময় বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রেখেছিল পাকিস্তান। চীনও সে কারণে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক আশফাকুর রহমান বলেন, ‘চীনের ওদের জিওপলিটিকেল কারণ ছিল। চীনের মানুষ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে অনেক বন্ধুত্ব পরায়ণ। আমেরিকা চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানের সমর্থন নিয়ে চায়নাকে সঙ্গী করার। আমরা ছিলাম তাদের কাছে বিরক্তিকর বিষয়। তারপর ভারত আমাদের সঙ্গে আছে। আর একটা কারণ চায়না পছন্দ করেনি।’
সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন (অব.) বলেন, ‘সেই সময় চীন এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে পকিস্তানের কাছে। যে পকিস্তান এ নরকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে চোখের লজ্জা আছে। ঠিক আছে, তাকে আর কোনো বিষয়ে প্ররোচিত করো না।’
চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সময়ে।’
যুক্তরাষ্ট্রের দলিলে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের যে ১৯৫ জন সেনা কর্মকর্তা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল মুজিব সরকার যেন তাদের বিচারের উদ্যোগ নিতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয়েছিল চীন সরকারও।
সাংবাদিক, লেখক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘১৯৫ জনের যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রশ্নেও কিসিঞ্জার ও মাও সেতুং এক হয়েছিল। কারণ কিসিঞ্জার ও মাও সেতুং বৈঠকের একটা মিনিটস আমি পড়েছি। সেখানে কিসিঞ্জার বলছেন যে, ১৯৫ জনের যুদ্ধপরাধীদের বিচার আমি করতে দিবো না এবং প্রয়োজনে আমি এটা আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির অংশে পরিণত করবো এবং মাও সেতুং সেটা সমর্থন করেছিল।’
তবে বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে চীনের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই। যদিও খুনি ফারুক দাবি করেছিল তাদের কথিত অভ্যুত্থানে চীনের সমর্থন দিয়েছে।
মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘ফারুক যখন থাইল্যান্ডে ছিল তখন আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে বলেছিলেন যে চাইনিজরা তাদের পক্ষে ইনটারভেন করবে।’
অন্যদিকে বাস্তবতা হলো স্বাধীনতার পর চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালীন তা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও চীনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে মুশতাকের ক্ষমতা নেয়ার পর।