বিশেষ প্রতিবেদন

কেজিবি আগেই জানিয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকরা হতে পারে

বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকরা হতে পারে এমন সংবাদ সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি আগেই বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিল। তবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রিয় মূল্যায়নে এ হত্যাকাণ্ডে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যুক্ত নয়, এমন অভিমত দিলেও - বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রে বাংলাদেশে আগস্ট অভ্যুত্থানের দায় দায়িত্ব সিআইয়ের কাঁধে চাপিয়ে নিবন্ধ প্রকাশের উদ্যোগ নেয় কেজিবি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবমুক্ত করা দলিলে দেখা যায়, মস্কোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত এক তারবার্তায় ওয়াশিংটনকে জানায়, সোভিয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে, ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য ‘প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি’ দায়ী।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে বড় সমর্থন ছিল ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার। এ সমর্থন শুধু নৈতিক নয়, প্রত্যক্ষভাবেও তাদের এ বৈষয়িক সহায়তা ছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও। আর মিত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞ সংঘটনে চলমান চক্রান্তের ওপর নজরদারি ছিল রাশিয়ারও।

সেনাবাহিনীর কুচক্রী একটি অংশ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, এমন শংকার খবর আগেই জানিয়ে ছিল সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি। তবে বঙ্গবন্ধু তা নাকচ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল যে, কোনো বাঙালি তাকে হত্যা করতে পারে না।

কুটনৈতিক বিশ্লেষক ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন না যে কোনো বাঙালি তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারে।’

নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক মে. জে. আবদুর রশিদ (অব.) বলেন, ‘কেজিবি ও বিভিন্ন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এ সম্পর্কে কিছু আভাস দিয়ে ছিল।’

সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউদ্দিন (অব.) বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যে চিঠি দেয়া হলো গোপনীয়ভাবে যে, ফারুখ রশীদের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা ইত্যাদি বিষয়ে। তখনও কিন্তু এ চিঠি বঙ্গবন্ধু পড়ার আগে তার সচিবালয়ের একজন কর্মচারি বা কর্মকর্তা ডালিমের বাসাতে ফোন দিয়ে বলে, আপনার (ডালিম) বিরুদ্ধে এ রিপোর্ট এসেছে যে আপনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবেন। এ শুনে ডালিম তো রেগে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে নালিশ করে। বঙ্গবন্ধুও এ ব্যাপারটা অনেক হালকাভাবে নিলেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের দলিল সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারকে দায়ী না করলেও তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্যরকম। হত্যার দায় সিআইএর ওপর চাপিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রে নিবন্ধ প্রকাশের উদ্যোগটি ছিল কেজিবিরই।

সাংবাদিক, লেখক-গবেষক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘১৯৭৫ সালেন ১৫ আগস্টের পর পরই কেজিবি সিআইয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণায় ঝাপিয়ে পরার জন্য যে সিআইয়ে জড়িত রয়েছে এবং সিআইয়ে এটা করিয়েছে। এ প্রচারণায় ঝাপিয়ে পরতে ঢাকায় যে ফান্ডের পত্র-পত্রিকাগুলো এবং বিদেশেও তাদের মিত্র বা তাদের যে পত্র-পত্রিকাগুলোকে ব্যবহার করেছিল।’

এক তারবার্তায় মস্কোতে নিযুক্ত সেসময়ের মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টোয়েসেল ওয়াশিংটনে পররাস্ট্র দপ্তরকে জানান, রাশিয়া ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের জন্য 'প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে দায়ী করেছে।

রাষ্ট্রদূত স্টোয়েসেল লিখেছেন, এ ‘প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি’ বলতে তারা আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও সিআইএর সংশ্লিষ্টতাকেই বুঝিয়েছেন।

দেশটিভি/এএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে লড়বে ‘ইতি তোমারই ঢাকা’

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২০ বছর

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ