সরকারের পতন কিংবা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় নয় বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসন ও সংগঠনকে গোছানোই বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেইসঙ্গে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া মুখ্য উদ্দেশ্যে হলে চলবে না সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে জনসম্পৃক্ত ইস্যু ধরে সামনে এগুলে দলটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন বিএনপি গঠন করেন তখন তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে ১৩ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল দলটি। তবে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি সংসদের প্রতিনিধিত্বও হারিয়েছে। এখন সরকারও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সংসদের বাইরে চলে যাওয়ায় তাকে কোণঠাসা করে রাখতে চাইছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্ন ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের কাছে।
দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে আকবর আলি খান বলেন, ‘তারা আসলে যে কী পরিবর্তন চান এটা জনগণের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। তৃণমূলকে সুসংহত করার প্রয়োজন রয়েছে, সরকারের দুর্বলতাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।’
এদিকে, দীর্ঘদিন খুব কাছ থেকে বিএনপি বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন দুই জন রাজনীতিবিদ বলেন, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে খুঁজে বের করতে হবে দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে যখুনি কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে সেটা ভেতর থেকেই হয়েছে। তাই এখন এ ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে বিএনপি সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে এবং পরীক্ষিত নেতাদের সামনে নিয়ে আসবেন। আর আগামী নির্বাচনের অংশগ্রহণ করাই হবে বিএনপির জন্য মঙ্গলজনক।’
প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী বলেন, ‘দলে অনেক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং জনগণ হতাশ হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই সেই প্রেক্ষাপটি আমি মনে করবো যে দলের যারা আজ কর্ণধার রয়েছেন তাদের আরো তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’
এছাড়া, ক্ষমতার মোহ ছেড়ে জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করতে হবে বিএনপিকে। গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে আপোষ করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু আরো বলেন, ‘ডেমোক্রেসি ইজ আউট অব কম্প্রোমাইজ। বিএনপিকে কিছু ছাড় তো দিতেই হবে।’
প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়াটাকে একমাত্র লক্ষ্য বিবেচনা করে যদি কাজ করা হয় তাহলে কোনো দলেরপক্ষেই তার লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
আর আকবর আলি খান বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা খুবই কম। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো মহাসচিব নেই এবং দলকে সুসংগত করার জন্য যে ২/১টি কমিটির পরিবর্তন করা হয়েছে। সেগুলোর সম্পর্কেও পত্রিকায় যা আভাস দেখা যাচ্ছে তাতে ঐক্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয় না।’