ঢাকা জেলায় গত তিন বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৭৩ জন, যার অধিকাংশই ঘটেছে লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলা আর জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে। এসব দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কোনো রিপোর্টে আলোর মুখ দেখে যায়নি এবং যথাযথ ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। তাই প্রায়ই ঘটে চলেছে অনাকাঙ্খিত প্রাণহানী।
রেল লাইনে গড়ে ওঠা ভাসমান বাজার বা বস্তি অপসারণে চলে অর্থ বাণিজ্য। এসব সমস্যা সমাধানে রেল কর্তৃপক্ষের সরব ভূমিকা না থাকায় উচ্ছেদের কিছু দিনের মাথায় আবার গড়ে উঠছে বাজার বা বস্তি।
রেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, ডিভিশনাল স্ট্যাট অফিসার ও আই ডব্লিউ এ ৩টি তদারকি বিভাগ থাকলেও অভিযোগ রয়েছে ঠিকমত কাজ করছেন না তারা।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুল মজিদ বলেন, ‘২০১২ সালে ৩৪৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আর ২০১৩ সালে ৩৪৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং চলতি বছরে ১৮২টি। আমরা তো কাজ করেই যাচ্ছি কিন্তু পরর্বিতে আবার যে কোনোভাবে তারা আবার এখানে চলে আসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তদারকিটা যদি ঠিক মতো হতো তাহলে এ অসুবিধাগুলো বার বার হতো না।’
জনবলের অভাবে দুর্ঘটনা কমিয়ে আসতে পারছেন না এবং নিতে পারছেন না কোনো সঠিক ব্যবস্থাও বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু এক জায়গার সমস্যা নয়, সারাদেশের সমস্যা। আমাদের তো এতো জনবল নেই যে সকল সময় দেখা-শোনা করা যাবে।’
তবে দুর্ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রেলমন্ত্রী মজিবুল হক।
তিনি বলেন, ‘কারওরান বাজারের রেল দুর্ঘটনায় এখনো কোনো আলোর মুখ দেখা যায়নি—এ কথাটা ঠিক নয়। যতোগুলো তদন্ত কমিটি গঠন করেছি সবগুলো আলোর মুখ দেখেছে।’