সম্প্রচার কমিশন আইনের খসড়া তৈরি ও কমিশনের কর্মপরিধি নির্ধারনের জন্য সরকারের নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা মনে করেন, এ আইন তৈরির সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে তা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের সঙ্গে যেন সাংঘর্ষিক না হয়। এছাড়া আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া না করে যুগোপযোগী ও কার্যকর আইন তৈরির পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
দেশে সম্প্রচারিত ও সম্প্রচারের অপেক্ষায় থাকা টেলিভিশন ও রেডিওর সংবাদ, অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে গত আগস্ট মাসে। এ নীতিমালা নিয়ে পক্ষে -বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক উঠে। এরকম বাস্তবতায় সরকার সম্প্রচার কমিশন আইনের খসড়া তৈরি করতে অংশীজনের সমন্বয়ে নতুন করে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘অংশীজনের নির্দিষ্ট প্রতিনিধি সমন্বয়ে এই আইন তৈরির এবং কমিশন কাঠামোর তৈরির কমিটি বানানো হবে।’
সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম বিমেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সম্প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি পুরো গণমাধ্যমেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এ কমিশন আইন হওয়া জরুরি।
বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘যে পর্যায়ে আছে সেই পর্যায়ে যদি অংশিজনের দ্বারা একটি কমিটি করা হয় একটা কমিশন গঠন করে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি, অগ্রসরের একটা ভালো দিক। এ ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি যারা সম্প্রচার নীতিমার সপক্ষে সোচ্চার ছিলেন তারা শুধুমাত্র বক্তৃতা বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এ উদ্যোগে যা সরকার গ্রহণ করেবে তাতে অংশগ্রহণ করা। আমরা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে অংশগ্রহণ করবো এবং আমাদের মতামত দিবো।’
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘আইনটি নিশ্চই এখানে আইনবিশেষজ্ঞ থাকবেন এবং সম্প্রচার মাধ্যমের লোকজন থাকবেন। আশা করি নির্দিষ্ট নিরপেক্ষ জায়গা থেকে লোকজন থাকবেন যারা ভোক্তার কথা চিন্তা করবেন, দর্শক শ্রোতার কথা চিন্তা করবেন। তাদের প্রতিনিধিত্বও বিবেচনায় রেখে আমাদের সাংস্কৃতি ও সমাজনীতি, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই এ আইন তৈরি হবে।’
তবে তারা মনে করেন এ আইন প্রণয়নে কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে তা গণমাধ্যমের অন্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। আর এটার দৃষ্টিভঙ্গি নিবর্তনমূলক নয় মত প্রকাশে সহায়ক হতে হবে।
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আমরা যারা কমিটি করবো যে কমিটি সরকার করবে যারা যারা অংশ নিতে চান তারা নিজেদের প্রয়োজনে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবেন। আমাদের সুনির্দিষ্ট ওইরকম আইনজ্ঞ নেই বিশেষজ্ঞ নেই এ কারণে কাজটা থেমে থাকবে এটা মনে করার কারণ নেই। সদিচ্ছা থাকলে সবার এটা করা সম্ভব।
ড. গোলাম রহমান আরো বলেন, ‘সংবাদপত্র, রেডিও , টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য মাধ্যম ছাড়াও সামাজিক মাধ্যম আছে অনলাইন যে গুলো আছে সেগুলো ঠিকানায় নিয়ে আসতে হবে। সুতরাং এমন একটা অবস্থা হতে পারে সবগুলো মিলিয়ে একটা কমিশন হতে পারে। তবে এটা নিয়ে তাড়াহুড়ো করাও বোধ হয় ঠিক হবে না। কারণ সব কিছুর একটি পরিপক্কতা সময় থাকে।’