বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দিতে সুপারসনিক গতিতে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।
জাতীয় সংসদে বিচারপতি অপসারণ বিল গত বুধবার পাসের পর দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।
সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ ছাড়াও আরো তিনটি অনুচ্ছেদের আইন না হওয়া পর্যন্ত অকার্যকর হয়ে থাকবে। সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে অপসারণ সংক্রান্ত আইনটিও পাস করা দরকার ছিল বলে তারা মনে করেন।
তবে তাদের কেউ কেউ সংবিধান সংশোধনকে স্বাগত জানালেও আবার অনেকেই বলছেন এর ফলে কর্তৃত্ববাদের একটি সম্প্রসারণ হয়েছে মাত্র।
বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেয়ার বিধান রেখে গত ৭ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। যাচাই বাছাই শেষে রোববার সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়।
বুধবার অধিবেশনে ওই বিলটি পাসের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ৪০ বছর পর আবার সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে এই বিল পাসের কারণে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ ছাড়াও আরো তিনটি অনুচ্ছেদ আইন না হওয়া পর্যন্ত অকার্যকর হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারপতি অপসারণে কমিটির কথা বলা হলেও কিভাবে কমিটি করা হবে তা স্পস্ট করা হয়নি।
সাংবাদিনক ও গবেষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনার গণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য আর মহাহিসাব নিরীক্ষক এ ৩টির ক্ষেত্রে বলে দেয়া আছে বিচারকদের যে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে অপসারণ করা হবে তাদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য হবে। সেই পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া কি হবে সেটি কিন্তু গতকালের বিলে পাসের মধ্য দিয়ে মীমাংসিত হয়নি। ’
ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেন, এটা সাক্ষাত করে একটা কর্তৃত্ববাদের একটা বর্ধিত যেন আমাদের সুপ্রিম কোর্টসহ অন্যান্য যে সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে তার ওপর কর্তৃত্ববাদের সম্প্রসারণ।’
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বাদ না দিয়ে বরখাস্ত করার ক্ষমতা ন্যস্ত করার যেন বিধান রাখা হয় সেদিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হলে সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদকে বহাল রেখে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের কাজে লাগানো যাবে না।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক আলাপ আলোচনার বিষয় ছিল, এটি সংবিধানে আনছি এটা অসত্য ও গ্রহণযোগ্য আর্গুমেন্ট। কারণ আমরা তো মীমাংসা করি নেই, আমরা তো আইন করি নেই, আমরা কি করে এ তদন্ত কমিটি করবো ৭২ সংবিধানে আমরা তা ঠিক করিনি।’
ষোড়শ সংশোধনীকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, এই বিল পাসের ফলে দ্বিমতের বা দ্বিধার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার আসলে ঊচ্চ আদালতে বিচারকদের নিয়োগ দেন। সুতরাং বিচারক নিয়োগ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি কখনো কোনো অদক্ষতা অভিযোগ আসে সেটা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতাটা নিয়োগকারীর সংস্থার হাতেই থাকাটাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে এই চিন্তা চেতনাটার সামঞ্জস্য আছে।’
অতি দ্রুত আইন করে এ বিধানকে কার্যকর করার কথা বলেন তিনি।