বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ এবং তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা উচিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
তার মতে, ভারতের মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে মনস্তাত্তিক দূরত্ব রয়েছে তা কমানোর একটা সুযোগ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন হতে পারে।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারত সফরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে আলোচনার সুচনা করেছেন তার ধারাবাহিকতা থাকবে নিউইয়র্কেও। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রাতেই (রোববার) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১৬ মে ভারতে বিজেপি সরকার গঠনের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার মন্ত্রিসভা শপথ অনুষ্ঠানে যোগদেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। এর একমাস পরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর, সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দুদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আর সবশেষ গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্টমন্ত্রীর দিল্লি সফর করেন। সবগুলো বৈঠকেরই প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সীমানা নির্ধারণ, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, বন্দি বিনিময় আর সীমান্ত হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব না কাটানো পর্যন্ত কোনো বৈঠক থেকেই সুফল আশা করা যাবে না।
একই সঙ্গে সরকারকে শক্তিশালী এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভারত সফরকে একটি সফল সফর হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারত সফরের ধারাবাহিকতাই রক্ষা হবে জাতিসংঘে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন। ওইদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।