একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাংলাদেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইতিহাসবিষয়ক মার্কিন অধ্যাপক সু গ্রোনওল্ড। দেশ টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে সময় প্রয়োজন তাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের গতি ধীর হওয়া দরকার।
তার মতে, এতে করে অপরাধের যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন সহজ হয়। গ্রোনওল্ড বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে যে অগ্রগতি তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্বের জন্য উদাহরণ।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে রাজাকার আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ও কাযর্কর হয়েছে। রাজাকার-কুলের হোতা গোলাম আযমসহ অনেকেরই বিচার শেষ হয়েছে। তবে এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিশেষ মহল দেশে-বিদেশে এখনো নেতিবাচক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
এ রকম বাস্তবতায় সেন্টার পর জেনোসাইড স্টাডিজের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন মার্কিন অধ্যাপক ও গণহত্যা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সু গ্রোনওল্ড। একাধিক অনুষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও গণহত্যা বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
দেশ টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে এই ইতিহাসবিদ আরো বলেন, বাংলাদেশের বিচারের উদ্যোগ সময়োপযোগী হয়েছে। তবে ন্যায় বিচারের স্বার্থেই এই বিচারে তাড়াহুড়া করা যাবে না। গতি ধীর করতে হবে।
সু গ্রোনওল্ড বলেন, ‘ধীর গতিতে বিচার এগিয়ে যাওয়া উচিত ন্যায় বিচারের স্বার্থে। এটা করতে হবে সতর্কভাবে। কারণ এ বিচার কিছু সময়ের জন্য নয় সারা জীবনের জন্য। আমি বিশ্বাস করি এ বিচার পৃথিবীর অন্যদেশের জন্য মডেল হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে উদাহরণ তৈরি করেছে। আর এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্মসময় অর্থাৎ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ই শুরু হতে দেখে, তিনি অভিভূত।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সংবেদনশীল। মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে এখানে নারীর ক্ষমতায়ন সফল হয়েছে। এখানকার নারীরা নিজেদের অধিকারের ব্যপারে অনেক সচেতন।’
তার আশাবাদ, বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে বিশ্বের সামনে উদাহরণ তৈরি করবে।