বিশেষ প্রতিবেদন

বিদ্যুতের নতুন দ্বার উম্মোচনে সহায়ক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি

বিপু
বিপু

সার্ক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় নতুন দ্বার উম্মোচন করেছে বলে মনে করেন সরকার— এমন মন্তব্য করলেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। শুক্রবার দেশটিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।

নেপালের কাঠমন্ডুতে সার্ক দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে শেষ মুহুর্তে আলোকিত হয় বিদ্যুতের ঝলকে। সার্ক'এর ১৮তম সম্মেলনের শেষ দিনে স্বাক্ষরিত হয় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি।

চুক্তি অনুসারে সার্ক সদস্য দেশগুলো একে অপরের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মান করতে পারবে। যৌথভাবে বিনিয়োগ করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করতে পারবে। এতে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটান থেকে বিপুল পরিমানে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে তাই অনেকেই সার্কের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করছেন।

বিপু বলেন, ‘আমরা আশা করছিলাম যেন বিদ্যুতের ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে পারি। এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটা বিশাল দ্বার উম্মোচন করে দিলো। হাইড্রো পাওয়ার কিন্তু সব সময় পাওয়া যায় না। এ পাওয়ারগুলো ব্যবহার করতে প্রায় ৮/৯ বছর লাগে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নেপাল সরকার আমাদের সঙ্গেএ ব্যাপারে বিনিয়োগ করবে কিনা এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা বিনিয়োগ করবো এই প্রস্তাবও দিয়েছি।’

এখন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সঞ্চালন লাইন নির্মান করে সহজেই বিদ্যুৎ আনা-নেয়া সম্ভব হবে— উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ম. তামিম বলেন, তবে এর জন্য বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশগুলোর পারস্পারিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোড় দিতে হবে।

ম. তামিম বলেন, ‘আমাদের যে সুবিধা হবে সেটা হলো সমগ্র ভারতে আমরা জানি বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। তবে তাদের যেখানে চাহিদা আছে সেখানে তাদের সরবরাহ নাই। আবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যেখানে সরবরাহ আছে সেখানে চাহিদা নাই। এখানে একটা আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতা আছে। এই গ্রিডের মাধ্যেমে এ ভারসাম্যহীনতা ফিরে আসতে পারে। তাতে সব দেশই যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের নিজেদের স্বার্থ জড়িত থাকবে।’

নেপালে প্রায় ৪৫ জাহার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে— উল্লেখ করে তিনি আরে বলেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে আছে প্রায় ৭০ হাজার মেগাওয়াটের সম্ভাবনা। ভুটানেও বিপুল পরিমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে এর অংশীদার হতে বাংলাদেশের প্রয়েজন হবে বড়ে বিনিয়োগের।

ম. তামিম বলেন, ‘যে সম্ভাবনা আমাদের আছে এ এলাকায়, সেটা হলো জল বিদ্যুতের সম্ভাবনা। সেটা ভুটানে আছে নেপালে আছে এবং ভারতের উত্তর- পূবাঞ্চলে আছে। আমাদের যদি এটি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে এই তিনটি জায়গা থেকেই আনতে হবে।’

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে পারে অথবা তাদের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদী ক্রয় চুক্তিতেও করতে পারে।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে লড়বে ‘ইতি তোমারই ঢাকা’

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২০ বছর

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ