এক দশকের আগে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে না পারলেও নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হতে পারবে বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি)ডিস্টিঙ্গুইসড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।
গত বৃহস্পতিবার স্বল্পোন্নত দেশ নিয়ে অ্যাঙ্কটাডের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় বলেন, ২০২১ সালের মধ্য বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে পারবেনা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় নির্ভর করে বের হওয়া একটু জটিল। আমার ধারণা যে এটা অর্জন করা দশকের বেশি লাগবে।’
এর প্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে সিপিডির এসব মুল্যায়ন নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলেন। অনেকের কথা আমরা শুনি, এ সম্ভাবনা, ও সম্ভাবনা। এতো থিউরি আমরা বুঝি না। আমরা একটা জিনিসই বুঝি আর তা হলো মানুষকে পেট ভরে ভাত খাওয়াতে হবে, গৃহহারা মানুষকে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
এরইমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে— উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, তবে মাথাপিছু জাতীয় আয় ১৪শ ডলার না হওয়া পর্যন্ত, যেকোনো সময় নিম্ন আয়ের দেশে নামারও আশঙ্কা আছে।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করতে পারি।’
আর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশকে দাঁড় করানোর আশা করছে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম।
১১৯০ ডলার মাথাপিছু জাতীয় আয় নিয়ে কোন দেশকে সরাসরি মধ্য আয়ের দেশ বলা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুল আলম বলেন, এটা নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ।
তবে, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে এ সময়ে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে। তবে, অ্যাঙ্কটাডের হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেড় হতে পারবেনা।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে চলে যাবে বিশ্বব্যংকের হিসাব অনুযায়ী। কারণ সেই হিসাবটা কেবল মাত্র আয়ের ওপর নির্ভর করে এবং আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে যদি ১২০০ ডলার হয় কিংবা ১১৫০ ডলার হয় যদি এটা অতিক্রম করতে পারে তবে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ বলে বিবেচিত হবে। মধ্য-মধ্য আয়ে যদি যেতে হয় তবে বাংলাদেশকে ৪৫০০ ডলার অতিক্রম করতে হবে।’
অ্যাঙ্কটাডের হিসেবে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেড় হতে হলে মাথাপিছু জাতীয় আয় ১২৪২ ডলার হতে হবে। আর বাংলাদেশের আছে ১১৯০ ডলার। আর্থিক নাজুকতা সুচক সর্বোচ্চ ৩২ হতে হবে, বাংলাদেশের আছে ৩২.৪ আর মানব উন্নয়ন সুচক হতে হবে ৬৬, যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৫৪.৪।
অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক শুধু মাথাপিছু জাতীয় আয়কে বিবেচনায় নিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ নির্ধারণ করে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে, মাথাপিছু জাতীয় আয় ১০৪৬ ডলারে পৌঁছলেই নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়। আর বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১১৯০ ডলার।
তবে টেকসই নিম্নমধ্য আয়ের দেশ হতে হলে কমপক্ষে ৭/৮% জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু জাতীয় আয় ১৪০০ ডলার হতে হবে বলে মনে করন বিশেষজ্ঞরা।