রমনা কালিমন্দির। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১-এর ২৭ মার্চ মধ্য রাতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র আশ্রমবাসীর ওপর চলে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ। পুড়িয়ে হত্যা করা হয় আশ্রমে থাকা শতাধিক সাধু ও ভক্তদের। গুড়িয়ে দেওয়া হয় পুরো মন্দির। স্বাধীনতার ত্রিশ বছর পর ২০০১ সালে সেদিনের শহীদদের স্মরণে মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে একটি মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে মন্দিরটিকে আবারও পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনার।
প্রায় পাঁচশো বছর আগে গোপাল গিরি নামের এক সন্যাসী তৎকালীন ঢাকার রমনায় বর্তমান সোহরোওয়ার্দী উদ্যানের পাশে একটি আখড়া স্থাপন করেন, পরিচিত ছিল কাঠঘর। পরবর্তীতে এখানে নির্মাণ করা হয় কালি মন্দির ও আশ্রম নির্মাণ করা হয়। পিরামিড সাদৃশ্য মন্দিরে এ পর্যায়ে আসে শুরু করেন দেশি-বিদেশি সাধু ও ভক্তরা।
১৯৭১'এর ২৫ মার্চ রাতে "অপারেশন সার্চলাইট" এর নামে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ২৬ মার্চ সকালে আশ্রমের সকলকে শাসিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনারা। রাতে শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ; নির্বিচারে চলে গুলি নিহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। পরে আহতদের পুরিয়ে হত্যা করে পুরো আশ্রম গুড়িয়ে দিয়ে যায় পাকিস্তানি হায়নারা।
মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তুপ সরিয় আবারও তৈরি হয় আশ্রম। রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলে ত্রিশ বছর পর একাত্তরের সে দিনের শহীদের স্মরণে ২০০১ সালে মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ।
রমনা কালি মন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম পরিচালনা পর্ষদ সহ-সভাপতিবিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান একটি মাস্টারপ্ল্যানের অধীনের রমনা কালি মন্দিরের আদি রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।