মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম ঘটনা ছিলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাধর গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান কিলিং অপারেশন। ১৯৭১ এর ১৩ অক্টোবর চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোর মোজাম্মেল হক স্টেনগান চালিয়ে পাকিস্তানি দোসর মোনায়েম খানকে হত্যা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই দুসাঃসিক কিশোরকে "বীর প্রতীক" সম্মানে ভূষিত করে সরকার। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি স্মরণে রাজধানীর অদূরে নিজ এলাকায় ওই মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করেন "বীরের প্রত্যাবর্তন" নামে ভাস্কর্য। যা আজ অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।
কাঁধের বাম পাশে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। ডান হাত উঁচিয়ে তিনি জানাচ্ছেন বিজয়ের বার্তা। এমন দৃশ্যের ভাস্কর্যটি যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ৫৯ ফুট ৬ ইঞ্চি ঊচ্চতার ভাস্কর্যটি যে বেদির উপরে দাঁড়িয়ে আছে তার চারপাশ মোড়ানো হয়েছে পোড়া মাটির টেরাকোটা দিয়ে। যাতে উঠে এসেছে বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে প্রতিচ্ছবি।
রাজধানীর গুলশান-২ এর নতুন বাজারের মূল সড়ক থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ভাটারা থানার ছোলমাইদ এলাকা। ১৯৭১ এ এ এলাকা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এখানেও অনেক বাঙালীকে হত্যা করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। এ ভাটারাতেই জন্ম কিশোর মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মোজাম্মেল হকের। যিনি একাত্তরের ১৩ অক্টোবর দুঃসাহসিক অপারেশন চালিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাধর গভর্নর মোনায়েম খানকে হত্যা করেছিলেন।
সেদিনের সেই স্মৃতি ধরে রাখতে আর বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্বাধীনতা ৩৭ বছর পরে নিজ উদ্যোগে ২০০৮ সালে গ্রামে তৈরি করেন এই ভাস্কর্য "বীরের প্রত্যাবর্তন"।
তবে বর্তমানে এটির বেহাল অবস্থা। ভাস্কর্যটির পেছনের দিকটায় গড়ে উঠেছে একটি ময়লার ভাগার। যেখানে ৫ মিনিট দাঁড়ানোই দায়। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবহিত করার পরেও কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এ মুক্তিযোদ্ধা।