বাল্যবিবাহের হার কমাতে মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমাই কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় হতাশ নারী সংগঠনগুলো। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে নারী নেত্রী মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও প্রগতি নারী সংঘের পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হবে। শুধু তাই নয় জাতীয় শিশুনীতি ও জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদেরও পরিপন্থী।
একই সুরে তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিলে এক শতাব্দী পিছিয়ে পড়বে নারীরা। তাই বাল্য বিবাহ রোধে বয়স কমিয়ে নয় বরং আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
নারী নেত্রী আয়শা খানম বলেন, সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী, তাতে ক্ষমতায়নের দিক থেকে নারীদেরকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়া হবে।
সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়টি নিয়ে কিছু জানায়নি বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ শিশু তহবিলের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ১৮ বছরের আগে ৬৬% মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। ২০০৯ যা ছিল ৬৩%। আর ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের দুই তৃতীয়াংশ কিশোরী বাল্য বিবাহের শিকার হয়। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের ৬৯% নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়।
এ বছর যুক্তরাজ্যে গার্ল সামিটে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনা যাবে। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে সরকারের উদ্যোগগুলোও তুলে ধরেন ওই গার্ল সামিটে।
প্রধানমন্ত্রীর এ—বক্তব্যের দুই মাস যেতে না যেতেই মন্ত্রিসভায়-বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ তে আনার কোনো উপায় আছে কি না তা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেয়া হয় বৈঠকে।
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে আনার সরকারের পরিকল্পনা সমালোচনার মুখে পড়ে। তরুণ তরুণীরাও আপত্তি জানায়।