চলতি শীত মৌসুমের মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
তবে গত জাতীয় নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচন যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়ে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা। আর সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সচেতন নাগরিকদেরকেই নিতে হবে বলে অভিমত তাদের। তবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তাদের নেই। নির্বাচন করতে সময় লাগবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনে সবশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০২ সালে। ২০০৭ সালে মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও ২০১১ সালে ডিসিসিকে বিভক্ত করার আগ পর্যন্ত আগের নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি শীত মৌসুমের মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়ে দেশ টিভিকে বিশিষ্টজনেরা বলেন, দেরিতে হলেও সরকারের এ সিদ্ধান্ত রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তিকর। তবে শুধু ঘোষণার মধ্যে না থেকে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেন তারা।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সিদ্ধান্তটা নেয়া সত্যেই অভিনন্দনযোগ্য। এতদিন পরে হলেও তারা উপলব্ধি করেছেন, সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারেন, তাদের আমলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে যেসব আভিযোগ যেসব জায়গায় আছে কমিশন তাদের কাজের জায়গা তৈরি করতে পারবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অত্যন্ত ইতিবাচক বলে আমি মনে করি। সরকার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় এবং নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রতি যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটা দূর করার জন্য তারাও এগিয়ে আসবে। আশা করি ঢাকাতে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
সেইসঙ্গে তারা বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না। অবিলম্বে নির্বাচনের পথে বাধাগুলো দুর করতে হবে। আর যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে নাগরিকদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে বলেও মত তাদের।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করাটা সম্ভব। আশা করি মন্ত্রণালয়সহ জেলা প্রশাসক সিটি করপোরেশন নিজেরাই এবং রাজনৈতিক দলগুলো সর্বপুরি নির্বাচন কমিশন কোনো রকম গুড়িমসি না করে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে নির্বাচনটা করার দিকে মন দিবেন। এখন নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হবে যোগ্য প্রার্থি বাছাই করে নির্বাচনে সহায়তা করা।
বদিউল আলম বলেন, সব ধরনের জটিলতা দুর করা সম্ভব হবে যদি সরকার সাহায্য করে। আশা করি কেবিনেটে যে আলোচনা হয়েছে নির্বাচনটা দ্রুত দেয়ার জন্যই হয়েছে, আশা করি দ্রুত নির্বাচনটা হবে।
তবে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে.নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়।