১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই সারাদেশের সকল যোগাযোগ মাধ্যম অচল করে দেয়ার তালিকায় রেলওয়ে ছিল সবার আগে। ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ঘাঁটি স্থাপন করার পর এখান থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন আক্রমন করে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী। বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো ভোরে স্টেশনে ভিড়তেই নির্বিচারে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করা হয় নিরস্ত্র মানুষকে। আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেয়া হয় ট্রেনের বগি। এ হত্যাযজ্ঞে যাত্রীদের সঙ্গে নিহত হন প্রায় ৩০ রেল কর্মচারী। বাকিদের স্টেশনে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৯ মাসের যুদ্ধে দেশের রেলস্টেশনগুলোতে আক্রমন চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারিকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। স্বাধীনতার ২৮ বছর পর সেই শহীদদের স্মরণে রেলওয়ের কর্মচারিদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘সূর্যকেতন’।
মুক্তিযুদ্ধের পর শুধু রেলেরই ১ হাজার ৩শ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহতের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
স্বাধীনতার ২৮ বছর পর কমলাপুর রেলস্টেশনে চাকুরিরত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অফিস সহকারি প্রথম উদ্যোগ নেন এসব শহীদ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণে একটি স্তম্ভ নির্মাণ করার। ১৯৯২ সালে নেয়া এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয় ১৯৯৯ সালে।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বাঁধার মুখে তখনকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবের হোসেন চৌধুরীর সহযোগিতায় কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রবেশ মুখেই নির্মাণ করা হয় এই ‘সূর্যকেতন’। এতে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সারাদেশে মোট ১৩০০ র মধ্যে ৯৬৫ শহীদ রেলকর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে সূর্যকেতনে।