একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশাপাশি প্রথম সারিতে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা। ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপরে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচার আর হত্যাযজ্ঞের শুরুতেই বিদ্রোহ করে বাঙালি সেনারা অংশ নেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে।
পরবর্তীতে বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সৈনিকদের স্মরণে ঢাকা সেনানিবাসে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘শিখা অনির্বান’ আর জাদুঘর ‘বিজয় কেতন’। যা মুক্তিযুদ্ধের জাগ্রত স্বাক্ষী হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তৎকালীন পাকিস্তান বাহিনী, বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের তীব্র ক্ষোভের মধ্যে পড়ে। বিদ্রোহ করে তারা অংশ নেন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে বর্বর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেন সশস্ত্র প্রতিরোধ। বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের তালিকায় যুক্ত রয়েছে তাদের অনেকের নাম।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতি ধরে রাখতে ঢাকা সেনানিবাসে নির্মাণ করা হয় ‘শিখা অনির্বান’। যার চারপাশে স্বচ্ছ কাঁচে এঁটে আছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সৈনিকদের নানা স্মৃতি।
মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বিজয় কেতন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। ঢাকা সেনানিবাসে এ জাদুঘরের বাইরে, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য, সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা নামে দীর্ঘ দেয়াল চিত্র। জাদুঘরের ভিতরে ছয়টি গ্যালারি।
এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা কীর্তি, স্মৃতি স্মারক, যুদ্ধে ব্যবহার করা অস্ত্র, গোলা-বারুদ, হাতে লেখা প্রথম সংবিধান, যুদ্ধ কামান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কফিন।
স্থাপন করা হয়েছে প্রতীকি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারিক আদালত, কারাগার ও বঙ্গবন্ধুর প্রতীকি বন্দিশালা।
এ ‘বিজয় কেতন’ এ সংরক্ষণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আগের ও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সংবাদ পত্রের কপি, ১১ যুদ্ধঘাঁটির পরিচিতি, জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশের মানচিত্র। নির্মাণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ তোরণ’।
সাত বীরশ্রেষ্ঠের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনাকদের নাম খোঁদাই করা হয়েছে এ তোরণে।