একাত্তরের বিভীষিকাময় হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি বহন করছে মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর শিরোশ্ছেদ করে এখানকার পাম্প হাউজের কুপে ফেলে দেওয়া হতো। স্থানীয় বিহারীদের সহযোগিতায় এখানে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী।
স্বাধীনতার ২৮ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ কুপ খনন করলে সেখান থেকে উঠে আসে মানুষের মাথার খুলি-হারগোড়, ব্যবহৃত জিনিসপত্র। জাতি যাতে সেসব কথা বিস্মৃত না হয়, এজন্য পুরো জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। আতাউর রহমান এর ক্যামেরায় বিস্তারিত তুলে ধরছেন ঝর্ণা রায়।
নয় মাসের রক্ত সাগর পেরিয়ে বিজয় উল্লাস আর স্বজন হারানোর কষ্ট যখন একাকার, তখনই একের পর এক বধ্যভূমির সন্ধান, পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দেয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিভৎস গলিত লাশের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল বাংলার আকাশ-বাতাশ।
একাত্তরে রাজধানীর বিহারী অধুষ্যিত মিরপুর ছিল পাকিস্তানীদের অন্যতম টর্চার সেল। বিহারীদের সহযোগিতায় বাঙালীদের ধরে এনে নির্যাতন করে হত্যা করা হত। মিরপুরে অনেকগুলো বধ্যভূমির মধ্যে দুটি জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর খনন কাজ চালায়। স্থানীয়ভাবে এই জায়গা দুটি পরিচিত ছিল জল্লাদ খানা ও নূরী মসজিদ বধ্যভূমি নামে।
সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এই জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলিসহ অসংখ্য দেহাবশেষ উদ্ধার করে। পাওয়া যায় স্যান্ডেল, জামা-কাপড়,তসবিহসহ ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা জিনিসপত্র। শিল্পী রফিকুন নবী ও মনিরুজ্জামানের নকশা ও পরিকল্পনায় এখানে "জীবন অবিনশ্বর" নামে একটি শোক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দোসরদের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে সূর্যকে। আর সামনের সবুজ খোলা মাঠকে সন্তানহারা মায়ের শূণ্য হৃদয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
গোটা চত্বর জুড়ে শান বাধানো ফলকে রয়েছে এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া দেশের বিভিন্ন স্থানের বধ্যভূমির তালিকা, শহীদদের নাম। সংরক্ষিত আছে বিভিন্ন বধ্যভূমির মাটি। একাত্তরে নির্যাতন, হত্যার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কুখ্যাত পাম্প হাউজটি। বহু মানুষকে এখানে ধরে এনে হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো এই কূপে।