রাজনীতি না করেও কেন নিষ্ঠুর রাজনীতির বলী আমরা? আগুনে পোড়া হতভাগ্য মানুষ ও তাদের স্বজনদের প্রশ্ন এখন এটাই। রাজনীতির নাটকে আবার বলী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
২০১৪ সালের মতো আবারো শুরু হয়েছে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার সন্ত্রাস। গত ৭ দিনের টানা অবরোধ আর হরতালে বোমা হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনায় আগুনে পুড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এরমধ্যে মারা গেছেন ১ জন। অবর্ণনীয় যন্ত্রনায় ছটফট করছেন আরো ১০ জন। বাকিরা সঙ্কটাপন্ন অবস্থা কাটিয়ে বাড়ি ফিরলেও যারা হাসপাতালে রয়েছেন দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের।
তাদেরই একজন মোহাম্মদ সেলিম। পেশায় গাড়ি চালক। রাজধানীর মুগদা থেকে মতিঝিল রুটে ছোট গাড়ি-লেগুনা চালান তিনি। রোববার সন্ধ্যায় কমলাপুর রেলস্টেশনের মোড় ঘুরতেই কয়েকজন তার গাড়ি আটকে ছুড়ে দেয় পেট্রোল বোমা। পুরো গাড়িতে আগুন না ছড়ানো পর্যন্ত ঘিরে রাখে দুর্বৃত্তরা। এমন তাণ্ডব চালিয়ে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা সেলিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুরো শরীরের ৩৬ ভাগই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কয়লা হয়ে গেছে তার একমাত্র আয়ের পথ কিস্তিতে কেনা লেগুনা গাড়িটিও। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এমন নৃশংস ঘটনার বর্ণনা নিজ মুখেই বার বার বলার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
গত বছরের মতো আবারো পেট্রোল ও ককটেলের আগুনে পোড়া রোগীদের আত্মচিৎকার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাসাপাতালের বাতাস।
দুবেলা-দুমুঠো খাবারে জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচীকে উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হওয়ায় এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির এ অবস্থায় কে ধরবে তার পরিবারের হাল?
রাজনৈতিক সহিংসতায় অগ্নিদগ্ধে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি -১০ জন, নিহত-১ জন, আশঙ্কাজনক -৩, বাড়ি ফিরেছেন-৩৬ জন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল বলেন, আগুনে পুড়ে আহত এসব রোগীদের দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর।
রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আর যেন কোনো নিরীহ মানুষকে এমন সহিংসতার শিকার না হতে হয় এমনই আকুতি সাধারণ মানুষের।