শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চান পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীনরা। চান ঘরে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা। দেড় মাস ধরে তাদের একই আকুতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে।
ঘটনার শিকার হওয়ার পর অনেকেই আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেও সহিংসতা বন্ধে কোনো উদ্যোগ না থাকার ক্ষোভ দগ্ধদের।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের ৪১ দিনে দুইশো'রও বেশি মানুষ দগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। চিকিৎসার পাশাপাশি এসব দগ্ধ রোগীদের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান এবং আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে দগ্ধ ৫৯ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
এর আগে, বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্রও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দগ্ধদের পাশে এভাবে দাঁড়াচ্ছে একে একে অনেকেই। কিন্তু মানুষ মারা রাজনীতি বন্ধ করতে কেউই উদ্যোগী হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়া দগ্ধরা।
দোকান কর্মচারী সালাউদ্দীন! পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। প্রতিদিন হাসপাতালে বসে আর দেখতে চান না কারো লাশ। ফিরে পেতে চান নিজের সুন্দর জীবন।
সালাউদ্দীনের মতো দগ্ধ হওয়া সকলের একটাই চাওয়া আর্থিক অনুদান নয়, রাজনীতির নামে এ ধরণের সহিংসতা বন্ধ করে স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার।
এ ধরনের সহিংসতার কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিও জানান হতভাগ্য মানুষগুলো।