নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে যাচ্ছে পুলিশ। আইনানুগভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগ আনা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে।
ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম দেশ টিভিকে বলেন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক বাংলাদেশি এবং সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে টেলিসংলাপের কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মান্না।
তবে ২০০৭ -৮ সালে জরুরি অবস্থাকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের সেনা কর্মকর্তা যারা বর্তমানে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তাদের সঙ্গে যোগসাজসের ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অবশ্য এ ব্যাপারে এখনো মুখ খুলেননি মান্না।
রোববার নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির টেলিসংলাপ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। তাতে দেখা যায় মান্না বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখলের পরামর্শ দেন। এজন্য একাধিক লাশ পড়লেও সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেন।
তার এ ধরনের কথোপকথন প্রচারের পর সারাদেশে সমালোচনা ঝড় উঠে। মঙ্গলবার র্যা ব তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেনা বিদ্রোহের উসকানি দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন মান্না।
পুলিশ জানায়, মান্না ২০ দলীয় জোটের চলমান সহিংস আন্দোলনে জানামালের ক্ষতিসাধন ও সরকারের পতন সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সলাপরামর্শ করেছেন। সংবিধানসম্মত নিবাচিত সরকারকে উৎখাতে এ ধরনের ধরনের তৎপরতা সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছেন তাদের তথ্য জানতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপি মুখপাত্র।
এছাড়া মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২০-এর এ, ১২১ এর এ ও ১২৪ এর এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে যাচ্ছে। আইনগত বৈধ সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে বলে জানান তিনি।
তবে ২০০৭-৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেপথ্যে যুক্ত থাকা সেনা কর্মকর্তারা কেউ এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে ব্যাপারে এখনো মান্না মুখ না খুললেও পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে।