ক্রমেই বাড়ছে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমে পাড়ি জমানো ব্যক্তিদের সংখ্যা। গত তের বছরে সেকেন্ড হোমের আওতায় দেশটিতে বাড়ি-গাড়ি কিনেছেন ২ হাজার ৮'শ ৭৪ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে ২০১১-১৩ সালে তিন বছরেই গেছেন ৯'শ ৪৯ জন।
এতে দেশ থেকে পাচার হয়েছে কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। আর এ অর্থপাচারের বিষয়ে পুরোপুরিই অন্ধকারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, পাচার হওয়া এসব অর্থের সিংহভাগই অপ্রদর্শিত আয়ের অংশ বলে মনে করেন বিশেজ্ঞরা।
পাঁচ লাখ রিঙ্গিট বা এক কোটি ২২ লাখ টাকা জমা দেয়ার পাশাপাশি মাসিক ১০ হাজার রিঙ্গিট বা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বৈদেশিক আয় দেখাতে পারলেই পাওয়া যাবে মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোমে স্থায়ীভাবে বসবাসেন সুযোগ। আর সেকেন্ড হোমে সুযোগ নিয়ে মালয়শিয়ায় স্থায়ী বসবাসকারিদের মধ্যে বংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।
২০০৩ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে প্রথম বছরেই ৩২ জন বাংলাদেশি অন্তর্ভূক্ত হয়। এর পরের বছর যায় ২০৪ জন। ২০০৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সেখানে পাড়ি জমানোর সংখ্যা। সে বছর যায় ৮৫২ জন। ২০০৭ সালে যায় ১৪৯ জন। পরের তিন বছরে গেছেন ২২৮ জন। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১১ থেকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বাড়তে থাকে স্থায়ী পাড়ি জমানো মানুষের সংখ্যাও। এ ২০১১-১৩ পর্যন্ত গেছেন প্রায় সাড়ে নয়শো।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের লিউ অর্থনীতিবীদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোমে হিসেবে বেছে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে অর্থপাচারের পরিমানও। সেকেন্ড হোমের নামে যে বিশাল অংকের টাকা পাচার হয়ে তার বড় অংশই অপ্রদর্শিত বলে মনে করেন তিনি।
ড. জাহিদ আরো বলেন, তবে টাকা কিভাবে যাচ্ছে বা কার নিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়ে এখনো কোন তথ্য নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, এ অর্থপাচারের বিষয়ে তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তারা।