ধর্ষণ করে হত্যার শাস্তি সংক্রান্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারাটি নিয়ে ঊচ্চ আদালতের রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মী আইন ও সালিশী কেন্দ্রের নির্বাহী সুলতানা কামাল ও নিজেরা করি সংগঠনের প্রধান খুশি কবীর।
মঙ্গলবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তারা বলেন, ব্যক্তি যেই হোক না কেন তার জীবনের অধিকার হরণ করা অসাংবিধানিক। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবেই অপরাধী সবসময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তবে, অপরাধের আধিক্য কমানোর পাশাপাশি অপরাধীকে শাস্তি দিতে হলে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিচার ব্যবস্থাপনাকে তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন তারা।
এ ধরনের অপরাধ কমাতে হলে সামাজিক অবকাঠামোর পরিবর্তনের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাপনাকে তৎপর করার উপর জোর দেন সুলতানা কামাল।
আইনের সঠিক প্রয়োগের মধ্যদিয়েই অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই অপরাধী বারবার পার পেয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন মানবাধিকার কর্মীরা।
নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নসহ আইনের সংশোধন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে বিভিন্ন সময়। তারপরেও থেমে থাকেনি নারী নির্যাতন।
পরবর্তীতে ২০০০ সালে, ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হলেও ধর্ষণের পর হত্যার একমাত্র শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
তবে, মঙ্গলবার আপিল বিভাগ এই বিধানকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়ায় একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা।
তারা বলছেন, কোনো অপরাধের শাস্তিই একমাত্র মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের রাষ্ট্রের কোনো এখতিয়ার নেই বলেও মনে করেন তারা।