ভারতের লোকসভায় দুদেশের স্থলসীমান্ত বিল পাসের মধ্য দিয়ে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানের পথ সহজ হলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
একই সঙ্গে তিস্তা সমস্যা সমাধান অনেকটাই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপরও নির্ভর করবে বলে মত দেন তারা। তবে অনেক বছর ঝুলে থাকা সীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তি নিয়ে দুদেশের মানুষের মধ্যে যে আবেগের সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে বাকি সমস্যাগুলোও সমাধানে সরকারকে এগুতে হবে।
দেশ টিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।
১৯৭২ সালে আন্তঃ সীমান্ত নদীগুলোর উন্নয়নের বিষয়টি সামনে রেখে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিস্তার পানি বণ্টনের ইস্যূ আলোচনায় আসে। ১৯৮৩ সালে কমিশনের বৈঠকে তিস্তার প্রবাহের জন্য ২৫% পানি রেখে বাকি ৭৫% পানি দুদেশের মধ্যে ভাগ করতে একটি এডহক চুক্তিরও উদ্যোগ নেয়া হয়।
পরবর্তীতে নীতি-নির্ধারক ও দুদেশের মনস্তাত্তিক দূরত্বের কারণে সে উদ্যোগ এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এরপর ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তিস্তার বিষয়ে দুদেশ একমত হতে পারেনি।
২০১১ চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণেই তা পিছিয়ে যায়। এরপর এ বছরে মমতার বাংলাদেশ সফরে তিস্তা ইস্যু নতুন গতি পায়।
এবার স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারের উদ্যোগে দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তিস্তার পানি বণ্টন সমাধানে আশার আলো দেখছেন।
তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুদেশের মধ্যে যে আবেগের তৈরি হয়েছে তা পুরোটাই কাজে লাগাতে হবে। আরেক বিশ্লেষক মনে করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কারণে তিস্তা ইস্যুতে প্রভাব পড়তে পারে।
সেজন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরেই অমিমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর করতে চায় বলে মনে করছেন দুজনেই।